‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না!’ বীরভূমে পাহাড়প্রমাণ কালো টাকা উদ্ধারের পর গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

বীরভূমের মহম্মদবাজারে অবৈধ বালি ও পাথর ব্যবসার চক্র রুখতে বড়সড় সফলতা পেল পুলিশ। অবৈধ কারবারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নজিবউদ্দিনের এক আত্মীয়ের আস্তানায় গোপন সূত্রে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং সোনা।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাত পেরিয়ে সকাল: থরে থরে সাজানো নোটের পাহাড়!
মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজার থানার অধীনে ওই গোপন আস্তানায় হানা দেয় বীরভূম জেলা পুলিশ। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, তল্লাশি চলাকালীন উদ্ধার হয়:
নগদ অর্থ: প্রায় ₹৫.৫ কোটি টাকা (টাকা গণনার কাজ এখনও চলছে)।
উদ্ধার হওয়া সোনা: ১৫ কিলোগ্রাম।
নোটের পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা দ্রুত গণনার জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে আসতে হয় ৫টি নোট গোনার যন্ত্র। উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদ ও সোনা সুরক্ষিতভাবে নিয়ে যাওয়ার জন্য বড় বড় ট্রাঙ্কও নিয়ে আসা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা ও কড়া হুঁশিয়ারি
এই সফল অভিযানের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে রাজ্য পুলিশের তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন:
“বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ক্র্যাকডাউন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপি, বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত পুলিশকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।”
একই সাথে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের সরকারের কড়া অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন:
জিরো টলারেন্স নীতি: রাজ্য সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে।
আইনের কঠোর শাস্তি: অতীতে যাঁরা জনসম্পদ লুট করে এবং তৎকালীন শাসকদলের যোগসাজশে বেআইনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
জনগণের সম্পদ জনগণেরই: সাধারণ মানুষের টাকা লুট করে যারা নিজেদের পকেট ভরেছে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে এই আপসহীন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
বীরভূমের এই মেগা অভিযানের পর জেলাজুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানে বালি ও পাথর মাফিয়াদের বিশাল নেটওয়ার্ক বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পত্তির উৎস কোথায় এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।