“আপনারাই তো ঢুকতে দিচ্ছেন না!” ইডি দফতরে হাজির হয়েই সাংবাদিকদের ওপর চটলেন মদন মিত্র

পুরনিয়োগ দুর্নীতি (Municipality Recruitment Scam Case) মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর সমন পেয়ে অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হলেন কামারহাটির বিধায়ক তথা ‘ঋতব্রতপন্থী’ নেতা মদন মিত্র। বুধবার নির্দিষ্ট সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে ইডি দফতরে পৌঁছান তিনি। তবে গাড়ি থেকে নামতেই সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নে কার্যত মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
“আপনাদের জন্যই আমার দেরি হচ্ছে!”
বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে গাড়ি থেকে পা রাখতেই মদন মিত্রকে ঘিরে ধরেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। বারবার কেন তাঁকে ইডি তলব করছে— এই প্রশ্ন করতেই ক্ষুব্ধ কামারহাটির বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি যা বলার ভেতরে গিয়ে ইডি আধিকারিকদেরই বলব।” এরপরও ভিড় ও প্রশ্নের চাপ বাড়তে থাকলে কিছুটা মেজাজ হারিয়ে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন, “যদি আপনারা আমায় ভেতরে যেতে না দেন এবং আমার যদি দেরি হয়, তবে আমি ইডি-কে গিয়ে বলব আপনাদের (সাংবাদিকদের) জন্যই আমি সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি।”
ইডি-র র্যাডারে পুরো পরিবার
এই প্রথম নয়, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে এর আগেও একাধিকবার ইডি-র আতশিকাচের নিচে এসেছেন মদন মিত্র। কামারহাটি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ উঠতেই গত জুন মাসে তাঁর ভবানীপুর ও দক্ষিণেশ্বরসহ একাধিক বাসভবনে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। উদ্ধার হয়েছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি।
পরবর্তীকালে গত ১৪ জুলাই মদন মিত্র এবং তাঁর পুরো পরিবারকে নোটিশ পাঠায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেই নির্দেশ মেনেই মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই ছেলে ইতিমধ্যেই ইডি দফতরে গিয়ে নিজেদের বয়ান নথিভুক্ত করেছেন। এবার সেই একই মামলায় মদন মিত্রকে সশরীরে হাজির হতে হলো।
দলবদল বনাম ইডি সমন!
উল্লেখ্য, পরিবারকে ইডি নোটিশ পাঠানোর দিনই অর্থাৎ ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাবা স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে দীর্ঘ বৈঠক করেন মদন। এরপরই সকাল হতেই বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গ ছেড়ে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘ঋতব্রত শিবিরে’ যোগ দেন।
শিবির বদল করার পরই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জোড়াফুল শিবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতে শুরু করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন করলেও আইনি বিপাক থেকে যে সহজে রেহাই মিলছে না, বুধবার ইডি দফতরে মদন মিত্রের হাজিরাই তার প্রমাণ।