রানি রাখি সাওয়ান্তের আসল পরিচয় কী? জীবনের কোন গভীর রহস্য আজও ধোঁয়াশায়?

গ্ল্যামার দুনিয়ায় বিতর্ক এবং রাখি সাওয়ান্ত যেন একে অপরের সমার্থক। তবে ক্যামেরার সামনের এই চঞ্চল ও বহুলচর্চিত ব্যক্তিত্বের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রাম ও বহু চড়াই-উতরাইয়ে ভরা জীবনের ইতিহাস। ১৯৭৮ সালের ২৫ নভেম্বর মুম্বইতে জন্ম নেওয়া রাখির আসল নাম নীরা ভেদা। এক সাধারণ মারাঠি হিন্দু পরিবারে তাঁর শৈশব কেটেছিল চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে। পরিবারের অভাব অনটন দূর করতে অত্যন্ত অল্প বয়সেই কাজে নামতে বাধ্য হন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন রাখি। পরবর্তীকালে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি ‘সাওয়ান্ত’ পদবি গ্রহণ করেন। এরপর ২০০০-এর দশকের শুরুতে ‘ম্যায় হুঁ না’ এবং ‘মস্তি’-র মতো জনপ্রিয় ছবিতে আইটেম ডান্স নম্বরের মাধ্যমে তিনি বিনোদন দুনিয়ায় পরিচিতি পান এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি টিভি ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।

ধর্ম পরিবর্তন ও আধ্যাত্মিক জল্পনা
রাখির ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই রূপকথার মতো নাটকীয় এবং বহুচর্চিত। ২০০৯ সাল নাগাদ রাখি এবং তাঁর মা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জনসমক্ষে খুব একটা মুখ খুলতেন না, বরং বিষয়টিকে একান্তই ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করতেন। ধর্ম পরিবর্তনের পরেও তিনি বলিউড এবং রিয়েলিটি টেলিভিশনে নিজের কাজ সমানভাবে চালিয়ে যান।

তবে জীবনের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত মোড় আসে ২০২২ সালে, যখন আদিল খান দুরানির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ২০২২ সালের জুন মাসে আদিলকে বিয়ে করার আগে রাখি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘ফাতিমা’ রাখেন। এরপর তাঁকে দীর্ঘদিন বোরখা পরা অবস্থায় দেখা যায়। প্রথমে এই দম্পতি তাঁদের বিয়ের কথা গোপন রাখলেও, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তা প্রকাশ্যে আনেন।

আইনি লড়াই এবং বৈবাহিক ভাঙন
বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁদের সম্পর্কে শুরু হয় চরম নাটকীয়তা। রাখি অভিযোগ করেন যে, আদিল তাঁর অতীত ও পরিচয় সম্পর্কে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ওশিওয়ারা পুলিশ স্টেশনে আদিলের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, প্রতারণা এবং আর্থিক জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করেন অভিনেত্রী। ওইদিনই পুলিশ আদিলকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। রাখি আরও দাবি করেছিলেন যে, মাইসুরুতে আদিলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁরা জন্মসূত্রে হিন্দু হওয়ার কারণে তাঁকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের পর, ২০২৫ সালের শেষের দিকে বোম্বে হাইকোর্ট একটি আপস মীমাংসার ভিত্তিতে রাখি এবং আদিলের পারস্পরিক সমস্ত এফআইআর বাতিল করে দেয়। এর মাধ্যমেই তাঁদের বহুচর্চিত আইনি বিবাদের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাখি সাওয়ান্ত তাঁর বর্তমান ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে জনসমক্ষে পরিষ্কার করে কিছু জানাননি। তিনি কি এখনও ইসলাম ধর্ম পালন করছেন, নাকি খ্রিস্টান ধর্মে ফিরে গিয়েছেন, কিংবা নিজের শিকড় হিন্দু ধর্মে পুনরুত্থিত করেছেন—তা নিয়ে এখনও রহস্যের মেঘ ঘনীভূত। তাঁর এই বর্ণময় ও রহস্যে ঘেরা আধ্যাত্মিক যাত্রা নিয়ে নেটিজেনদের কৌতূহল আজও অন্তহীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *