প্রাক্তন বাস চালকের বাড়িতে ‘নোটের পাহাড়’! মেঝেময় সিআইডি, উদ্ধার টাকা গোনার মেশিনও

চালকের কাজ থেকে নিয়েছিলেন স্বেচ্ছাবসর। অথচ তাঁরই সাধারণ এক বাড়িতে হানা দিয়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় তদন্তকারীদের! বীরভূমের মহম্মদ বাজার থানার ডেউচা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এবং একটি টাকা গোনার মেশিন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
ভোররাতে পুলিশ ও সিআইডি-র যৌথ তল্লাশি
বীরভূম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রাক্তন বাস চালকের নাম মিনার মণ্ডল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সাতসকালে হঠাৎ করেই মিনার মণ্ডলের ডেউচার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ ও সিআইডি। ৬টি গাড়ির বিশাল কনভয় নিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলেন আধিকারিকরা। এর পরেই শুরু হয় বাড়িটির কোণায় কোণায় চিরুনি তল্লাশি।
উদ্ধার টাকা গোনার মেশিন, পরিমাণ হতে পারে কয়েক কোটি!
তল্লাশি চলাকালীন বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বান্ডিল বান্ডিল টাকা। ঘরের ভেতর নগদ টাকা মেলায় শেষ পর্যন্ত আনা হয় টাকা গোনার মেশিন। তবে ঠিক কত টাকার পাহাড় সেখানে জমেছিল, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি বীরভূম জেলা পুলিশ কিংবা সিআইডি। তবে প্রাথমিক অনুমান, বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নেপথ্যে কি পাথর ব্যবসার লিঙ্ক?
এক সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত বাস চালকের কাছে কীভাবে এল এত বিপুল পরিমাণ অর্থ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই উঠে আসছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসূত্র। জানা গিয়েছে, বীরভূমের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মিনার মণ্ডল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই বিপুল কালো টাকা গচ্ছিত রাখার পেছনে পাথর ব্যবসার কোনও বড়সড় যোগ থাকতে পারে।
বর্তমানে পুরো বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং মিনার মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া সমস্ত অর্থ কোথা থেকে এল এবং এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িয়ে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।