“শান্তিপূর্ণ মিছিলে নারকীয় গুলি!” PoK-র রাওয়ালকোটে পাক সেনার তাণ্ডব, রক্তে লাল বাইশ গজ, নিহত অন্তত ১৪!

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমে আসা সাধারণ মানুষের ওপর ফের নেমে এলো পাকিস্তানি সেনার নির্মম তাণ্ডব! রাওয়ালকোটে আয়োজিত ‘আওয়ামী হুকুক লং মার্চ’-এ নিরাপত্তা বাহিনীর অতর্কিত গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই ডজনেরও বেশি আন্দোলনকারী।
জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (JAAC) শীর্ষ নেতা ইমতিয়াজ আসলামের বিস্ফোরক দাবি, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারীরা যখন চিনার চক ও মকবুল ভাট শহীদ চকের দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কোনো উস্কানি ছাড়াই পাকিস্তানি সেনা ও পাক পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। নিহতদের মধ্যে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠকের ভাই এবং দুজন বালুচ নাগরিকও রয়েছেন।
📌 রক্তপাত ও বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি:
-
ব্ল্যাকআউট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: গণহত্যার পরপরই গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন দমনে এবং খবর দাবিয়ে রাখতে পাক প্রশাসন পুরো অঞ্চলে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
-
মুজফ্ফরাবাদ দখলের ডাক: সব ধরনের পরিবহন নিষেধাজ্ঞা ও চরম বাধার মুখোমুখি হয়েও আয়োজকরা পিছু হটতে নারাজ। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে পায়ে হেঁটে তারা যেকোনো মূল্যে মুজফ্ফরাবাদ পৌঁছাবেন।
-
বিশ্বমঞ্চে প্রতিবাদের ঢেউ: পাকিস্তানি বাহিনীর এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কাশ্মীরি ও মানবাধিকার কর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ বাড়াতে বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানি দূতাবাস ও জাতিসংঘের (UN) কার্যালয়গুলির বাইরে বৃহৎ বিক্ষোভ প্রদর্শনের ডাক দিয়েছে JAAC।
“বুলেটের ভয় দেখিয়ে অধিকার আদায়ের কণ্ঠ বন্ধ করা যাবে না। সাধারণ মানুষের রক্তে হাত রাঙিয়েছে পাক সেনা!” — ক্ষোভে ফেটে পড়ে মন্তব্য আন্দোলনকারী নেতাদের।
🔍 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য:
পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই ফুঁসছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি হিংসা চরম রূপ নিলেও, নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর পাক সেনার এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক স্তরে শাহবাজ শরিফ সরকারের বেআইনি দমন-পীড়নের নগ্ন রূপটি ফের একবার উন্মোচিত করে দিল।