টাওয়ার নেই? কুছ পরোয়া নেহি! ‘Amazon Leo’ আনছে এমন প্রযুক্তি, যা বদলে দেবে ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা!

ফোনের রিচার্জ শেষ হয়ে গেছে বা মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না? এবার সেই সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান নিয়ে আসতে চলেছে গ্লোবাল টেক জায়ান্ট আমাজন (Amazon)। কোনো টেলিকম অপারেটরের সিম কার্ড বা ওয়াইফাই (WiFi) কানেকশন ছাড়াই সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফোনে কলিং, মেসেজিং ও ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

আমাজনের এই বিশেষ উদ্যোগটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Amazon Leo’। এটি মূলত একটি ‘ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস’ (Direct to Device বা D2D) স্যাটেলাইট সার্ভিস।

কী এই ‘Amazon Leo’ পরিষেবা?

সাধারণত স্মার্টফোনে কল করা বা নেট ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো টেলিকম সংস্থার সিম কার্ড বা টাওয়ারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ‘Amazon Leo’ পরিষেবার সাহায্যে ব্যবহারকারীর স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য গ্যাজেট সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

এই সুবিশাল লক্ষ্য পূরণে ২০২৮ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫,১০৫টি লো-অর্বিট (Low-Orbit) স্যাটেলাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে ‘Globstar’ নামের একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সংস্থাকে অধিগ্রহণ করেছে আমাজন। তাদের স্পেকট্রাম ব্যবহার করেই স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে অবস্থান করবে। জানা গেছে, এই প্রজেক্টে টেক জায়ান্ট অ্যাপল (Apple)-এর সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করবে আমাজন।

গ্রাহকদের কী লাভ হবে?

  • প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিরামহীন সেবা: বিশ্বের যে সমস্ত দুর্গম বা পাহাড়ি এলাকায় টেলিকম টাওয়ার বসানো সম্ভব নয়, সেখানেও অনায়াসে পাওয়া যাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও কলিং পরিষেবা।

  • নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন মোবাইল টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়ে, তখনও স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

আমাজন জানিয়েছে, এই পরিষেবার প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। গত ২ জুলাইয়ের মধ্যেই মহাকাশে ৩৭৫টি স্যাটেলাইট সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে এই পরিষেবা চালুর জন্য মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘এফসিসি’ (FCC)-র কাছে ছাড়পত্রের আবেদন জমা দিয়েছে আমাজন। অনুমতি পেলেই দ্রুত গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে এই ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *