এক বিছানায় সন্তানের সঙ্গে ঘুমানো কি সত্যিই নিরাপদ? ‘কো-স্লিপিং’ নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে জানলে চমকে যাবেন!

একসময় তথাকথিত ‘আধুনিক প্যারেন্টিং’-এর দোহাই দিয়ে সন্তান জন্ম নেওয়ার পরেই তাকে আলাদা বিছানা বা ঘরে শুতে দেওয়ার প্রবণতা তুঙ্গে উঠেছিল। লক্ষ্য ছিল— শিশুকে স্বাবলম্বী করা। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই চাকা আবার উল্টো দিকে ঘুরছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে ফেসবুক, এখন বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং #CoSleeping।
যে নিয়ম বছরের পর বছর ধরে আমাদের মা-ঠাকুমারা মেনে এসেছেন, তাতেই আবার ফিরে যাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের বাবা-মায়েরা। শুধু সামাজিক মাধ্যমেই নয়, চিকিৎসকেরাও এখন মা-বাবার সঙ্গে শিশুর এক বিছানায় ঘুমোনোর বিষয়ে সবুজ সংকেত দিচ্ছেন।
‘কো-স্লিপিং’ কী এবং কেন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তায়?
‘কো-স্লিপিং’ মানেই শুধু এক বিছানায় ঘুমানো নয়, এটি সন্তান ও মা-বাবার মধ্যকার এক গভীর মানসিক মেলবন্ধন। বিজ্ঞানের মতে, বাবা-মায়ের গায়ের গন্ধ ও নিঃশ্বাসের শব্দে শিশু নিজেকে অনেক বেশি নিরাপদ মনে করে। ফলে শিশু রাতে কম কাঁদে এবং তার ঘুমের মান ভালো হয়।
এর পাশাপাশি, মায়েদের রাতের বেলা ব্রেস্টফিডিং করানো অনেক সহজ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, শৈশবে বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে ঘুমালে শিশুদের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যায়।
বিপদের ঝুঁকি এড়াতে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি
তবে আবেগের বশে কোনো অসাবধানতা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্তানকে পাশে নিয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি জরুরি নিরাপত্তা টিপস:
-
শক্ত তোশক ব্যবহার করুন: খুব নরম গদি, অতিরিক্ত বালিশ বা ভারী লেপ বাচ্চার শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। তাই বাচ্চার শোয়ার জায়গা ফাঁকা রাখুন।
-
বিছানার অবস্থান: খাট যেন দেয়ালের সাথে এমনভাবে থাকে যাতে মাঝে কোনো ফাঁক না থাকে, যেখানে শিশু আটকে যেতে পারে।
-
নেশা বা কড়া ওষুধ এড়িয়ে চলুন: বাবা-মা ধূমপায়ী হলে, অ্যালকোহল সেবন করলে কিংবা কড়া ঘুমের ওষুধ খেলে বাচ্চার সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমানো একদম অনুচিত।
-
চিকিৎসকের পরামর্শ: শিশু ৬ মাসের কম বয়সী হলে বা প্রিম্যাচিউর (অপরিণত) হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
ব্যস্ত জীবনে সম্পর্কের মূল ভিত্তি
আজকের ব্যস্ত ডিজিটাল যুগে সন্তানকে দিনভর পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। রাতের এই কয়েক ঘণ্টার সান্নিধ্য মা-বাবা ও সন্তানের সেই মানসিক দূরত্ব দূর করতে সাহায্য করে। হয়তো কয়েক বছর পর শিশু নিজেই আলাদা ঘুমাতে চাইবে, কিন্তু শৈশবের এই উষ্ণতা ও নিরাপত্তার অনুভূতি তার মনে থেকে যাবে সারাজীবন।