“৯-টা ৫-টার চাকরি অতীত!”-জেন-জিদের পছন্দ ‘কনটেন্ট ক্রিয়েশন’, কীভাবে উপচে পড়ছে আয়?

কয়েক বছর আগেও কনটেন্ট তৈরি করাকে অনেকেই কেবল শখ বা অবসর সময় কাটানোর উপায় হিসেবে দেখতেন। ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানিয়ে যে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা আয় করা সম্ভব, সেই ধারণাও ছিল বেশ সীমিত। কিন্তু সময় বদলেছে। আজকের জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের কাছে কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুধুই নিজেকে প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি একটি সম্ভাবনাময় পেশা এবং স্বাধীনভাবে স্বনির্ভর হওয়ার নতুন দিশা।

সুলভ ইন্টারনেট, স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে এখন আর বড় শহরে থাকা বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টুডিওর প্রয়োজন পড়ে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও নিজের মেধা তুলে ধরে গ্লোবাল অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

তরুণদের নতুন পরিচয় এখন ‘ক্রিয়েটর’

ইউটিউবের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের একটি বড় অংশ নিজেদের স্রেফ ‘দর্শক’ না ভেবে ‘ক্রিয়েটর’ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত কিছু না কিছু তৈরি করাই তাঁদের নতুন পছন্দ। ডিজিটাল মাধ্যম এখন আর শুধু স্ক্রল করার জায়গা নয়, বরং পার্সোনাল ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

  • ছোট শহর থেকেও নতুন তারকা: মেট্রো সিটির গণ্ডি পেরিয়ে এখন মফস্বল বা গ্রামের তরুণ-তরুণীরাও নিজেদের আঞ্চলিক ভাষা, রান্নাবান্না, ভ্রমণ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ গল্প ফুটিয়ে তুলে কোটি কোটি ভিউ পাচ্ছেন।

  • ফুল-টাইম ক্যারিয়ার: স্পনসরশিপ, ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ, ফেসবুক-ইউটিউব অ্যাড রেভিনিউ এবং নিজস্ব প্রোডাক্ট লাইনের মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েশন এখন ফুল-টাইম ক্যারিয়ারে রূপ নিয়েছে।

কনটেন্ট জগতে নারীদের উত্থান ও সরকারি উৎসাহ

আগে যেখানে নারীদের তৈরি কনটেন্ট মূলত ফ্যাশন বা বিউটি টিপসেই সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন স্বাস্থ্য, রাজনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, কোডিং, কুকিং এমনকি উদ্যোগ সংক্রান্ত বিষয়েও নারীরা দাপটের সাথে কনটেন্ট বানাচ্ছেন।

সরকারি সাহায্য ও প্রশিক্ষণ: ডিজিটাল অর্থনীতির এই অভাবনীয় গতি দেখে সরকারও সৃজনশীল প্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (VFX), গেমিং এবং কমিকস (AVGC) খাতে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সরকারি অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয়তার সাথেই বাড়ছে দায়বদ্ধতা

সুযোগ যত বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিযোগিতা ও দায়িত্ব। দ্রুত ভাইরাল হওয়ার চক্করে অনেক সময় ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া কিংবা ক্রিয়েটরদের মানসিক অবসাদের মতো বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ক্রিয়েটর ইকোনমিতে টিকে থাকতে হলে শুধু ভিউ বা ফলোয়ারের পেছনে না ছুটে দায়িত্বশীল উপস্থাপন ও মৌলিক বিষয়বস্তু তুলে ধরা জরুরি।

একথা স্পষ্ট যে, জেন-জি প্রজন্ম প্রথাগত কর্পোরেট চাকরির ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। নিজের সৃজনশীলতা ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে আজকের তরুণ ভারত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *