“মিছিলেও প্রেম হোক!” নিটের আন্দোলন করতে গিয়ে এ কী কাণ্ড ঘটালেন বিহারের যুবক?

“মিছিলেও প্রেম হোক, ভেঙে যাক মোহ / তুমি সাজো ব্যারিকেড, আমি বিদ্রোহ…”— কবি তথা গীতিকার সুব্রত বারিশওয়ালার লেখা এই পঙ্‌ক্তি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল বাস্তব জীবনে! সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়েছিলেন বিহারের এক যুবক। আর সেই প্রতিবাদের উত্তাল আন্দোলনের মাঝেই খুঁজে পেলেন তাঁর জীবনের আসল প্রেম! শুধু তাই নয়, আন্দোলন শেষ হওয়ার আগেই ওই তরুণীকে বিয়েও করে বসেছেন তিনি। এই যুগলের অভাবনীয় কাণ্ডকারখানা দেখে আপাতত হতবাক ও তাজ্জব পুরো নেটপাড়া।

জানা গিয়েছে, মোহন শ্রীবাস্তব নামক ওই ব্যক্তি নিট আন্দোলনে অংশ নিতে বিহার থেকে সোজা দিল্লিতে পাড়ি দিয়েছিলেন। যন্তর মন্তরে টানা ১৫ দিন ধরে চলা সেই বিক্ষোভে তিনি সক্রিয়ভাবে শামিল হন। তবে সেই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে তাঁর খাওয়া-দাওয়ার বা থাকার কোনো ঠিকানাই ছিল না। আর ঠিক সেই কঠিন সময়েই তাঁর খেয়াল রাখতে এগিয়ে আসেন এক তরুণী। আন্দোলন চলাকালীন প্রখর রোদের মাঝে জল খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, কখনও সিঙাড়া, কখনও চানা বা অন্য কোনো খাবার সযত্নে এনে খাইয়ে তাঁর দেখভাল করতেন ওই তরুণী। এককথায়, চরম অশান্তির মাঝেও তাঁকে পরম আদরে আগলে রেখেছিলেন তিনি।

আর এই দৈনিক পরিচর্যা ও পরিচয়ের ফাঁকেই ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা গভীর হতে শুরু করে। আলাপ থেকে বন্ধুত্ব এবং সেখান থেকে প্রেমের সম্পর্ক— পুরো বিষয়টি ঘটে যায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে। আন্দোলনের উত্তাপের মাঝেই কখন যে সেই প্রতিবাদের ময়দান পূর্ণাঙ্গ প্রেমের উপাখ্যানে রূপ নেয়, তা তাঁরা নিজেরাও টেরও পাননি। শেষ পর্যন্ত আন্দোলন পর্ব চুকিয়ে ওই তরুণীকে সঙ্গেই নিয়ে বাড়ি ফেরেন এবং ধুমধাম করে তাঁকে বিয়ে করে নেন মোহন শ্রীবাস্তব।

নেটপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অদ্ভুত ও রোমহর্ষক প্রেমকাহিনি ছড়িয়ে পড়তেই তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সাধারণ নেটিজেনদের। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, সমস্ত প্রতিকূলতা ও ভুল সময়ের ভিড়েই কীভাবে প্রেম নিজের সঠিক পথ ঠিক খুঁজে নেয়, এটি তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। আবার অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এত কম সময়ে কীভাবে এত বড় সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব?

আরেক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “সুন্দর ও মধুর জিনিসগুলো এভাবেই আকস্মিক উপায়ে ঘটে যায়।” রসিকতা করে অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিহারিরা যেখানেই যান, সেখানেই নতুন কিছু ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দেন।” কেউ আবার এই ঘটনাকে নাম দিয়েছেন ‘রে-লাভ-উশন’ (Re-love-ution)।

সামাজিক মাধ্যমে মোহনের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে তাঁর মাথায় আঘাতের পট্টি বাঁধা রয়েছে এবং ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। আর তাঁর ঠিক পাশেই হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁর নববিবাহিতা স্ত্রী এবং মা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *