টানা দু’দিন পেটে নেই দানাপানি! অসুস্থ শরীরেই গ্লাসগোয় সোনা জয় মীরাবাঈ চানুর

টানা দু’দিন পেটে এক কণাও খাবার পড়েনি। ক্লান্ত শরীর নিয়ে নেমেই সোজা গ্লাসগোর মঞ্চে বাজিমাত! কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের হয়ে প্রথম সোনার পদকটি নিজেদের ঝুলিতে পুরলেন অলিম্পিক্সে দেশের নাম উজ্জ্বল করা তারকা মীরাবাঈ চানু। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগের ভারোত্তোলনে তাঁর দাপটে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কের শুরুতে সামান্য হোঁচট খেলেও চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়ান, ঠিক সেভাবেই কামব্যাক করে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে গেমসের নতুন নজির গড়েছেন এই তারকা।
পেটে খাবার নেই, তবুও সোনার হাসি
মঞ্চ থেকে নামার পরেই প্রবল হাপাচ্ছিলেন মীরাবাঈ। জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় তাঁর চোখ গলে নেমে আসে আনন্দের অশ্রু। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক অত্যন্ত চমকপ্রদ ও অজানা তথ্য ফাঁস করেন তিনি। হাসিমুখে স্পোর্টসপার্সনসুলভ মেজাজে তিনি জানান, “জলদি জলদি করো, ম্যায়নে কুছ খায়া নেহি হ্যায় দো দিন সে।” অর্থাৎ, গত দু’দিন ধরে তিনি কার্যত কিছুই খাননি!
দীর্ঘদিনের কোচ বিজয় শর্মা এবং পরিবারের সমর্থন ও কঠিন পরিশ্রমের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ৩১ বছরের এই ভারতীয় তারকা। তিনি জানান, বন্ধু এবং পরিবারের প্রবল চাপের মুখেও তাঁরা সবসময় পাশে থেকেছেন, যার ফলেই দেশের জন্য এই সোনার পদক জয় করা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: “সামনে এশিয়ান গেমস থাকায় গ্লাসগোয় নিজেকে খুব বেশি নিংড়ে দিতে চাননি মীরাবাঈ। সোনা নিশ্চিত হওয়ার পর চোট এড়াতে শেষ রাউন্ডের ঝুঁকি এড়িয়ে যান তিনি।”
দাপুটে প্রত্যাবর্তন ও নতুন রেকর্ড
প্রতিযোগিতায় অন্যান্য ভারোত্তোলকদের সঙ্গে মীরাবাঈয়ের মানের ফারাক ছিল আকাশ-পাতাল। বাকিদের সব রাউন্ড শেষ হওয়ার পর তিনি মূল মঞ্চে নামেন। প্রথম স্ন্যাচে ৮২ কেজি তুলতে ব্যর্থ হলেও, পরমুহূর্তেই একই ওজন অনায়াসে তুলে নেন। এরপর ৮৫ কেজি তুলে কমনওয়েলথ গেমসে গড়ে ফেলেন নতুন রেকর্ড।
ক্লিন অ্যান্ড জার্কেও ছবিটা ছিল প্রায় একই রকম। প্রথম চেষ্টায় ১০৫ কেজি তুলতে অসফল হলেও দ্বিতীয় চেষ্টাতেই বাজিমাত করেন। ১০৫ কেজি তুলে শুধু সোনা নিশ্চিত করাই নয়, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক এবং সার্বিক ওজনের (১৯০ কেজি) ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন তিনি। নাইজেরিয়ার রৌপ্যজয়ী প্রতিযোগী রুথ আসুকো নিয়ংকে পাক্কা ২২ কেজির ব্যবধানে পেছনে ফেলে নিজের হ্যাটট্রিক কমনওয়েলথ পদক নিশ্চিত করেন মীরাবাঈ।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ও মণিপুরের জোড়া সাফল্য
সামনেই রয়েছে এশিয়ান গেমস। হাতে দু’মাসেরও কম সময় থাকায় গ্লাসগোয় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চাননি চানু ও তাঁর কোচ। সোনা নিশ্চিত হওয়ার পর শেষ রাউন্ডে আর নামেননি তিনি।
এদিকে, মীরাবাঈয়ের পাশাপাশি মণিপুরের ভারোত্তোলকদের জন্য দিনটি ছিল অত্যন্ত স্মরণীয়। পুরুষদের প্রতিযোগিতায় ১২১ কেজি তুলে কমনওয়েলথ গেমসের স্ন্যাচ রেকর্ড স্পর্শ করে রুপো জেতেন চানুর সতীর্থ ঋষিকান্ত সিং। সার্বিকভাবে তাঁর তোলা ওজন দাঁড়ায় ২৬৪ কেজি। মীরাবাঈয়ের এই গ্লাসগো-বিজয় এবং এশিয়ান গেমসের আগের এই পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রীড়ামহলের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর।