সপ্তাহের শুরুতেই চরম ভোগান্তি! ভাড়াবৃদ্ধির দাবিতে আজ ১২ ঘণ্টার মেগা ক্যাব ধর্মঘটে স্তব্ধ তিলোত্তমা

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাব বা ট্যাক্সির ভাড়া বৃদ্ধি না হওয়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া থাকায় শেষমেশ বাধ্য হয়ে রাস্তায় ধর্মঘটের ডাক দিলেন অ্যাপ ক্যাব চালকেরা। তাঁদের সাফ দাবি, ভাড়াবৃদ্ধি না হওয়ায় গাড়ি চালিয়ে পেট চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং মার খাচ্ছেন চালকরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্যাব পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চালকদের একাংশ।
কেন এই ধর্মঘট? চালকদের প্রধান দাবিগুলি কী কী?
ক্যাব চালক ও ইউনিয়নগুলির তরফে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। তাঁদের প্রধান অভিযোগ ও দাবিগুলি হল:
ভাড়া না বাড়া: দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়লেও অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া সেই তুলনায় বাড়ানো হয়নি।
পেট্রোল ও সিএনজি সংকট: হু হু করে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে পর্যাপ্ত সিএনজি (CNG)-র ঘাটতি চালকদের দৈনন্দিন সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
অবৈধ বাইক ট্যাক্সি: কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক পারমিট ছাড়াই বিভিন্ন বাইকে করে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এর ফলে যে সমস্ত চালক সমস্ত নিয়মকানুন ও ট্যাক্স মেনে ব্যবসা করছেন, তাঁদের ব্যবসা মার খাচ্ছে। এই ধরনের বেআইনি পরিষেবার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
শহরের বাস, ট্রেন ও মেট্রোর দৈনন্দিন ভিড় এড়িয়ে বহু মানুষই অফিস, স্কুল বা কলেজ সময়মতো পৌঁছনোর জন্য অ্যাপ ক্যাবের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম দিনেই এই আকস্মিক ধর্মঘটের ফলে সকাল থেকেই শহরজুড়ে তীব্র যাতায়াত সংকট তৈরি হয়েছে। রাস্তায় ক্যাব না পেয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়েছেন অফিসযাত্রীরা।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতীয় জ্বালানি নীতিতে পড়তে শুরু করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখতে এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার টারবাইন ফুয়েল ও পেট্রোলের রপ্তানি শুল্কে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে তেলের দামের এই টানাপোড়েনের মাঝেই ক্যাব চালকদের এই কর্মবিরতি সাধারণ মানুষের মাথাব্যথা আরও বাড়িয়ে দিল।