দিল্লির পর এবার কি পাঞ্জাব কাঁপাবে সিজেপি? প্রশ্নফাঁস নিয়ে বড় আন্দোলনের হুঙ্কার অভিজিৎ দীপকের!

দেশের রাজধানী দিল্লির পর এবার কি তবে পাঞ্জাবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে সামনে রেখে বড় কোনো আন্দোলনে নামতে চলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্তরের বিক্ষোভ প্রত্যাহারের রেশ কাটতে না কাটতেই পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে খুব শীঘ্রই নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে চলেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। পাঞ্জাবে ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগ উঠতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে পাঞ্জাবের ‘আপ’ (AAP) সরকারের দাবি, আদতে কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি; বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্ন বাইরে পাচার করা হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
পাঞ্জাবে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাসক দলের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু সরাসরি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজোট সিং-এর পদত্যাগ দাবি করেছেন। লুধিয়ানায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “পাঞ্জাবে শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসই হয়নি, তা প্রকাশ্যে বিক্রিও করা হয়েছে। এমনকি সাফাই কর্মীদেরও স্থায়ী করা হয়নি বা উপযুক্ত কর্মসংস্থান মেলেনি। এই চরম ব্যর্থতার জেরে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।”

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান পাল্টা দাবি করেছেন যে, তাঁর শাসনকালে রাজ্যে কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনাই ঘটেনি।

সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, এর আগে শিরোমণি অকালি দল (SAD)-ও একই অভিযোগে সরব হয়েছিল। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পঞ্জাব টেট (PTET), দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা এবং ফার্মাসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা সহ রাজ্যের মোট ছয়টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারের মুখে।

অকালি দলের প্রবীণ নেতা দলজিৎ সিং চিমা মন্তব্য করেছেন, সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আইনি শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর কথা বললেও, শুধুমাত্র সাজা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে তা আগে থেকেই রোধ করার জন্য কঠোর নিরাপত্তা এবং নির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) কার্যকর করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পাশাপাশি, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের নিজস্ব ভাষা ও প্রশাসনিক বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে রাজ্যগুলির হাতেই প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা থাকা উচিত।

কী বলছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?
দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, “গতকালই আমাদের একটি বড় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শেষ হয়েছে। আমাদের সামান্য সময় দিন, আমরা খুব শীঘ্রই পাঞ্জাবের বিষয়ে আমাদের পরবর্তী রণকৌশল ও কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমরা ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবের পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছি।” ফলে খুব শীঘ্রই যে পাঞ্জাবের মাটিও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *