মহিপালপুরের জ্যামে কি ফ্লাইট মিস হয়েছে? দিল্লি-গুরুগ্রাম যাতায়াত চিরতরে বদলে দিতে আসছে ৭ হাজার কোটির মেগা টানেল!

মহিপালপুরের যানজট বা এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে গাড়ি আটকে থাকা দিল্লির নিত্যযাত্রীদের কাছে এক পরিচিত সমস্যা। দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (IGI) বিমানবন্দরের মধ্যে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষের জন্য এনএইচ-৪৮ (NH-48), মহিপালপুর চক, রাংপুরী এবং বসন্ত কুঞ্জের রাস্তাগুলো মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যাম। তবে এই দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে এবার প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেগা অ্যাক্সেস-নিয়ন্ত্রিত করিডোর নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। দিল্লির সাউথ রিজ বা দক্ষিণাঞ্চলীয় পাহাড়ের নিচ দিয়ে তৈরি হতে যাওয়া এই টুইন-টিউব টানেল প্রকল্প বিমানবন্দর ও আন্তঃনগর যাতায়াতকে আরও দ্রুত ও মসৃণ করে তুলবে।

দিল্লি-এনসিআর যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে দিতে মেগা টানেল প্রকল্প:
এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হলো দিল্লির সংবেদনশীল সাউথ রিজ বনাঞ্চলের নিচ দিয়ে তৈরি হতে যাওয়া একটি অত্যাধুনিক ভূগর্ভস্থ টানেল। এর ফলে ওপরের সুরক্ষিত বনাঞ্চল অক্ষত রেখেই যানজটপূর্ণ এলাকাগুলো সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-র তত্ত্বাবধানে প্রায় ৮.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ছয় লেনের এই করিডোরটি নির্মাণে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৬,৯৬৯.৬৭ কোটি টাকা।

এই নতুন করিডোরটি যে জায়গাগুলোকে যুক্ত করবে:

দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের শিব মূর্তি ইন্টারচেঞ্জ

দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের কাছে নেলসন ম্যান্ডেলা মার্গ

প্রকল্পটির মূল প্রকৌশলগত বিশেষত্ব হলো এর ৩.১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্ডারগ্রাউন্ড টুইন-টিউব টানেল, যার প্রায় ১.৯৮ কিলোমিটার অংশ সাউথ রিজ বনের নিচ দিয়ে অতিক্রম করবে। পরিবেশের ক্ষতি না করেই মাটির নিচ দিয়ে এই সুড়ঙ্গ পথ তৈরি হওয়ায় বিশাল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না।

প্রকল্পটিতে সুড়ঙ্গের পাশাপাশি আরও থাকছে:

একটি ৩.৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড রোড

একটি ফ্লাইওভার

মহিপালপুর-ছত্তারপুর করিডোরের কাছে একটি এলিভেটেড ইউ-টার্ন

গ্রেড-সেপারেটেড ইন্টারচেঞ্জ

যাত্রীরা কীভাবে উপকৃত হবেন:
সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীরা, বিশেষ করে যাঁরা গুরুগ্রাম, দ্বারকা এবং পশ্চিম দিল্লি থেকে যাতায়াত করেন। বর্তমানের জ্যাম এড়িয়ে এই সিগন্যাল-ফ্রি করিডোরটি বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের সময় বাঁচাবে এবং যাতায়াত আরও অনেক বেশি নির্ভুল ও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে। পাশাপাশি এনএইচ-৪৮, মহিপালপুর জংশন এবং রাও তুলা রাম মার্গের মতো ব্যস্ত রাস্তাগুলোর ওপর থেকেও গাড়ির চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *