“তরুণ সমাজ ইনস্টাগ্রামেই আছে…” নিট আন্দোলনের উত্তাপ কমাতে কি বড় কৌশল নিলেন নরেন্দ্র মোদী?

রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET Paper Leak) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত ‘জেন জি’ (Gen Z) তথা দেশের ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের বাঁধভাঙা প্রতিবাদের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রবল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতে এবার চিরাচরিত রাজনৈতিক ছক ভেঙে এক অভিনব জনসংযোগ কৌশলের শরণাপন্ন হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজকে শান্ত করতে এবং সরকারের সঠিক অবস্থান তাঁদের বোধগম্য ভাষায় বুঝিয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের সমস্ত সহকর্মীকে ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভার্চুয়াল উপস্থিতিই নয়, প্রয়োজনে আকর্ষণীয় রিলস (Reels) তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি ইন্টারেক্টিভ সেশনে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

“তরুণ সমাজ এখন প্রধানত ইনস্টাগ্রামেই রয়েছে”

শুক্রবার অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহকর্মীদের কাছে জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কতজন মন্ত্রী ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিকভাবে সক্রিয়ভাবে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। দেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণী যে প্রতিদিন এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সময় কাটাচ্ছে, সেই বাস্তব সত্যটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোদী স্পষ্ট ভাষায় বলেন,

“আজকের তরুণ সমাজ প্রধানত ইনস্টাগ্রামেই রয়েছে। ডিজিটাল পরিকাঠামোর এই বিরাট ও অত্যন্ত প্রভাবশালী অংশটির কাছে পৌঁছানো এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা আমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।”

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও ইতিবাচক কাজগুলি সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার্থী ও যুবসমাজের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন ও খোলামেলা আলোচনার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এই লক্ষ্য পূরণের জন্যই ক্যাবিনেটের প্রতিটি মন্ত্রীকে নিয়মিত রিলস এবং আকর্ষণীয় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট ও কঠোর আইনের বার্তা

উল্লেখ্য, এই ক্যাবিনেট বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। সেখানে দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতি রোধ করতে প্রতিটি রাজ্যে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ বা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের মানসিক যন্ত্রণা ও দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে এই সংকট কাটাতে সরকারের সদিচ্ছার কথাও তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *