ট্যাটু আর্টিস্ট স্বামীর পরকীয়া ফাঁস হতেই তুলকালাম হাবড়ায়! রাস্তায় ফেলে স্ত্রীকে মারার পরিণতি কী হল?

পরকীয়ার জেরে রাস্তা মাঝেই স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। দৃশ্যটি দেখে স্থানীয় ক্লাবের ছেলেরা ও পথচলতি মানুষ প্রতিবাদ করায় শুরু হয় তুমুল বচসা। এরপরই অভিযুক্ত স্বামীকে গণধোলাই দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার এই ঘটনায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়ার কুমরা-কাশীপুর পঞ্চায়েতের পাঁচঘরিয়ার বাসিন্দা আনন্দ দত্তের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল আনখোলার রানি বালোর। আনন্দ পেশায় একজন ট্যাটু ও উল্কি শিল্পী। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁদের সংসারে অশান্তি দানা বাঁধতে শুরু করে। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী ফুলতলা গ্রামে একটি ভাড়াবাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
অশান্তির সূত্রপাত কোথায়?
পুলিশ জানায়, স্বামী ও স্ত্রী—দু’জনেই একে অপরের বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়িয়ে থাকার পালটা অভিযোগ তুলতেন। আর তা নিয়েই প্রায় প্রতিদিনই তাঁদের মধ্যে অশান্তি লেগে থাকত।
ঘটনার দিন রাতে রানি তাঁর স্বামীর দোকানে যান। সেখানে বচসা চলাকালীন আনন্দ রাস্তায় ফেলে স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। সেই সময় পাশেই একটি ক্লাবের ছেলেরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ, আনন্দ তখন উলটে ওই যুবকদের সঙ্গেও চরম ঝগড়া ও ঔদ্ধত্য দেখাতে শুরু করেন। এরপরেই ক্ষিপ্ত জনতা আনন্দকে মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গলায় গুরুতর চোট থাকায় তাঁর পাঁচটি সেলাই পড়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
কী বলছে দুই পরিবার?
-
স্বামীর বাবার বক্তব্য: আনন্দের বাবা বীরেন চন্দ্র দত্তের অভিযোগ, “বিয়ের পর থেকেই বউমা ছেলের সঙ্গে অশান্তি তৈরি করছে। বউমার অন্য কারোর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। গতকাল রাতে ও আমার ছেলের দোকানে গিয়ে ঝামেলা করে এবং পাশের ক্লাবের ছেলেদের ডেকে এনে আমার ছেলেকে মারাত্মকভাবে মারধর করায়।”
-
স্ত্রীর বক্তব্য: রানির পালটা অভিযোগ, “আনন্দ ট্যাটু করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। নিজের অপরাধ ও কুকীর্তি ঢাকতেই ও আমার নামে মিথ্যা পরকীয়ার অভিযোগ রটিয়েছে। ও আমাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করছিল, তখন স্থানীয় ক্লাবের দাদারা প্রতিবাদ করায় আনন্দ তাঁদের ওপর চোটপাট করতে যায়। তখনই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।”
পুলিশের পদক্ষেপ
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দম্পতির জীবনযাত্রায় বহু অনিয়ম ও অশান্তি ছিল। বিয়ের পর রানি হাবড়ার একটি পানশালায় নাচের কাজ করতেন, অন্যদিকে আনন্দের সঙ্গেও বিভিন্ন মহিলার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। ঘটনার পর উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে হাবড়া থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।