স্যামসাংয়ের সবচেয়ে পাতলা ফোল্ড ফোন! গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রা বনাম জেড ফোল্ড ৭-এর বিরাট ফারাক

গত ২২ জুলাই ২০২৬-এ স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করেছে তাদের অত্যন্ত প্রতীক্ষিত Galaxy Z Fold8 Ultra। একই মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেছে Galaxy Z Fold8 এবং Galaxy Z Flip8-ও। তবে শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন, এ বছর স্যামসাং তাদের ফোল্ড সিরিজকে দুটি আলাদা ভাগে বিভক্ত করেছে। যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারী ও কনটেন্ট দেখার কথা মাথায় রেখে আনা হয়েছে Galaxy Z Fold8, সেখানে Galaxy Z Fold8 Ultra তৈরি হয়েছে মূলত প্রোডাক্টিভিটি-কেন্দ্রিক ফিচার এবং Galaxy Z Fold7-এর প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে। আগের মডেলের তুলনায় নতুন আল্ট্রা মডেলে কী কী পরিবর্তন এল, দেখে নেওয়া যাক তার এক নজরে তুলনা।

১. ব্যাটারি ও চার্জিং
এই বিভাগে গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রা মডেলে সবথেকে বড় আপগ্রেড আনা হয়েছে।

পুরনো ফোল্ড ৭ মডেলে যেখানে ৪,৪০০mAh ব্যাটারি ছিল, নতুন ফোল্ড ৮ আল্ট্রা-তে দেওয়া হয়েছে ৫,০০০mAh ব্যাটারি।

চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। Fold7-এর ২৫W ওয়্যার্ড চার্জিংয়ের পরিবর্তে নতুন আল্ট্রা মডেলে রয়েছে Dual-Path ৪৫W ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি, যার ফলে ফোন অনেক দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে চার্জ হয়।

২. ক্যামেরা ও ভিডিও রেকর্ডিং
ক্যামেরা সিস্টেমেও এসেছে আমূল পরিবর্তন:

প্রাইমারি ক্যামেরা ২০০MP রাখা হলেও, এবার ২০০MP মোডে HDR সাপোর্ট যুক্ত করা হয়েছে, যা নিখুঁত রঙ ও আলো ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

সবথেকে বড় আপডেট এসেছে আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরায়। ১২MP থেকে বাড়িয়ে একে সরাসরি ৫০MP করা হয়েছে, যা ম্যাক্রো এবং গ্রুপ ফোটোগ্রাফিতে দারুণ ডিটেল দেবে।

ভিডিওর ক্ষেত্রে নতুন APV Codec-এর মাধ্যমে 8K ভিডিও রেকর্ডিং এবং Cine LUT সাপোর্ট যোগ করা হয়েছে, যার সাহায্যে সরাসরি ফোনেই সিনেম্যাটিক কালার গ্রেডিং করা সম্ভব।

৩. ডিজাইন ও ডিসপ্লে
সবচেয়ে পাতলা ডিজাইন: স্যামসাংয়ের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা ফোল্ড ফোন এটি। খোলা অবস্থায় এর পুরুত্ব মাত্র ৪.১ মিমি (Fold7 ছিল ৪.২ মিমি)। তবে ব্যাটারি ও ক্যামেরা বড় হওয়া সত্ত্বেও ফোনটির ওজন আগের মতোই ২১৫ গ্রাম রাখা হয়েছে।

ডিসপ্লে ব্রাইটনেস: ডিসপ্লের আকার (৬.৫ ইঞ্চি কভার এবং ৮.০ ইঞ্চি মেন স্ক্রিন) একই থাকলেও পিক ব্রাইটনেস ২,৬০০ নিটস থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ নিটস করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন ডিসপ্লে প্রায় ১৫% বেশি উজ্জ্বল।

৪. প্রসেসর ও কুলিং
পারফরম্যান্সের জন্য এতে রয়েছে কোয়ালকমের আরও উন্নত Snapdragon 8 Elite Gen 5 for Galaxy চিপসেট (Fold7-এ ছিল Snapdragon 8 Elite)।

ভারী কাজ ও মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে নতুন Expanded Graphite Cooling Structure।

RAM (১৬GB) এবং স্টোরেজ (সর্বোচ্চ ১TB) উভয় ফোনেই একই রাখা হয়েছে।

ভারতে দামের তফাত
তিনটি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টেই Samsung Galaxy Z Fold8 Ultra-র দাম সমমানের Galaxy Z Fold7-এর তুলনায় প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ১TB ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি।

আপনার কোনটি কেনা উচিত?
আপনার কাছে যদি ইতিমধ্যেই Galaxy Z Fold7 থাকে এবং শুধুমাত্র ডিজাইনের জন্য আপগ্রেড করতে চান, তবে নতুন মডেলে যাওয়া খুব একটা জরুরি নয়।

তবে আপনার যদি দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, উন্নত ক্যামেরা এবং দ্রুত চার্জিংয়ের প্রয়োজন হয়, তবে Galaxy Z Fold8 Ultra একটি দারুণ পছন্দ হতে পারে। অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে এই ফিচারগুলি আপনার জন্য কতটা জরুরি, সেটাই কেনার আগে বিচার করে দেখা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *