ডিভিডেন্ড পেতে চান? ভারতী এয়ারটেল থেকে হিরো মোটোকর্প—৪৩টি কোম্পানির শেয়ার কেনার আজই শেষ সুযোগ

আপনি যদি শেয়ার বাজার থেকে নিয়মিত লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড (Dividend) পাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel), হিরো মোটোকর্প (Hero MotoCorp), টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন এবং এইচডিএফসি এএমসি (HDFC AMC)-র মতো হেভিওয়েট নাম সহ মোট ৪৩টি কোম্পানির শেয়ার কেনার আজই শেষ সুযোগ রয়েছে। কারণ এই সমস্ত কোম্পানি আগামী ২৪শে জুলাই এক্স-ডিভিডেন্ড (Ex-Dividend) হয়ে যাচ্ছে।

এর সহজ অর্থ হলো, শুধুমাত্র সেইসব বিনিয়োগকারীরাই এই কোম্পানিগুলির ঘোষিত ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, যাঁরা এই স্টকগুলি আজকের মধ্যে কিনে নিজেদের পোর্টফোলিওতে যুক্ত করেছেন। স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, এই ৪৩টি কোম্পানি মিলে বিনিয়োগকারীদের মোট প্রায় ১,১২৭ কোটি টাকার লভ্যাংশ বিতরণ করতে চলেছে। যাঁদের মূল লক্ষ্য লভ্যাংশ বা প্যাসিভ ইনকাম অর্জন করা, তাঁদের কাছে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ।

এক্স-ডিভিডেন্ড তারিখ বলতে কী বোঝায়?
যখন কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে, তখন তারা একটি নির্দিষ্ট ‘রেকর্ড ডেট’ (Record Date) নির্ধারণ করে। শুধুমাত্র সেই সমস্ত বিনিয়োগকারীই ডিভিডেন্ড পাওয়ার অধিকারী হন, যাঁদের নাম রেকর্ড ডেটের দিন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের রেকর্ডে থাকে।

যেহেতু ভারতীয় শেয়ার বাজারে শেয়ার কেনাবেচার বন্দোবস্ত বা সেটেলমেন্ট T+1 ভিত্তিতে হয়ে থাকে, তাই রেকর্ড ডেটের অন্তত এক ট্রেডিং দিন আগে শেয়ার কেনা আবশ্যক। এই বিশেষ তারিখটিকেই ‘এক্স-ডিভিডেন্ড ডেট’ বলা হয়। অর্থাৎ, যে বিনিয়োগকারীরা এক্স-ডিভিডেন্ড ডেটে বা তার ঠিক পরে শেয়ার কিনবেন, তারা এবারের ঘোষিত লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হবেন।

নজর কাড়ছে কোন বড় কোম্পানিগুলি?
চলতি বছর লভ্যাংশ প্রদানকারী সংস্থাগুলির তালিকায় রয়েছে একাধিক বৃহৎ ও ব্লু-চিপ (Blue-chip) নাম। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে:

ভারতী এয়ারটেল

হিরো মোটোকর্প

এইচডিএফসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (HDFC AMC)

টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন

শেফলার ইন্ডিয়া (Schaeffler India)

কেএসবি লিমিটেড (KSB Limited)

কির্লোস্কর ব্রাদার্স (Kirloskar Brothers)

সুন্দরম ফাস্টেনার্স (Sundaram Fasteners)

সায়েন্ট ডিএলএম (Cyient DLM)

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি তাদের নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের (Board of Directors) অনুমোদন পাওয়ার পরেই এই লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত আয় বা প্যাসিভ ইনকাম নিশ্চিত করার জন্য ডিভিডেন্ড একটি দারুণ মাধ্যম। তবে, শুধুমাত্র ডিভিডেন্ড পাওয়ার লোভে অন্ধের মতো কোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। কোম্পানির আর্থিক কর্মক্ষমতা, ব্যালেন্স শিট, ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং সঠিক মূল্যায়ন (Valuation) খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।

পাশাপাশি, একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—এক্স-ডিভিডেন্ড তারিখে শেয়ারের দাম সাধারণত ঘোষিত ডিভিডেন্ডের পরিমাণের সমান বা তার কাছাকাছি কমে খুলতে পারে। তাই শুধু ডিভিডেন্ডের প্রলোভনে বিনিয়োগ করা সবসময় লাভজনক হয় না। কোম্পানির শক্তিশালী ভিত্তি, ধারাবাহিক লাভজনকতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনার ওপর ভরসা রেখেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা উচিত। ২৪শে জুলাই থেকে এই সমস্ত স্টক এক্স-ডিভিডেন্ড হিসেবে লেনদেন শুরু করবে, তাই যাঁরা ডিভিডেন্ড-ভিত্তিক বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *