পাকিস্তান-বাংলাদেশের অর্থনীতির চেয়েও তিনগুণ বড় আমেরিকার প্রতিরক্ষা বাজেট! জানলে চমকে যাবেন

সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ রেকর্ড ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১১ লক্ষ কোটি টাকা) মূল্যের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা বিল পাস করেছে। এই অর্থের পরিমাণ এতটাই বিশাল যে, এর তুলনায় বিশ্বের প্রায় ১৭৮টি দেশের সম্মিলিত জিডিপিও নগণ্য মনে হয়। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটই আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সমগ্র জিডিপির তিন গুণেরও বেশি।

তথ্যের অনন্য গণিত: কীভাবে ১৭৮টি দেশ পিছিয়ে পড়ল?

বিশ্বে প্রায় ১৯৫টি স্বীকৃত দেশ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের জিডিপি পরিসংখ্যান তুলনা করলে দেখা যায়, মাত্র ১৭টি দেশের জিডিপি ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে বিশ্বের প্রায় ১৭৮টি দেশের সম্মিলিত উৎপাদন ও আয়ের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় করে। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ একাই বহন করে যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির সাথে তুলনা

ভারতের প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের পরিসংখ্যানটি আরও বেশি চমকপ্রদ হয়ে ওঠে:

মান / অঞ্চল পরিমাণ (আনুমানিক) মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের সাথে তুলনা
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেট ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার
পাকিস্তানের মোট জিডিপি ৩৫০-৩৭০ বিলিয়ন ডলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট পাকিস্তানের জিডিপির ৩.২ গুণ
বাংলাদেশের মোট জিডিপি ৪৫০-৪৮০ বিলিয়ন ডলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট বাংলাদেশের জিডিপির আড়াই গুণ

সহজ কথায়, পাকিস্তান তার কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা খাত থেকে এক বছরে সম্মিলিতভাবে যা আয় করে, আমেরিকা তার সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং নতুন অস্ত্রের পেছনে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে।

এই বিশাল টাকা কোথায় খরচ করা হবে?

চলতি অর্থবছরের এই বিশাল সামরিক বাজেটে শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, গবেষণা ও বেতনের জন্যই সংস্থান রাখা হয়নি, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত কারণ:

  • ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত মোকাবেলায় জরুরি তহবিল, লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা এবং ইরানের সাথে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি।

  • ইন্দো-প্যাসিফিক ও চীনের ওপর নজর: তাইওয়ান প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা প্রভাব মোকাবেলায় নৌবাহিনী ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিকীকরণ।

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও হাইপারসনিক অস্ত্র: পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধের জন্য এআই ড্রোন, সাইবার যুদ্ধ এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ।

  • পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকীকরণ: আমেরিকার পারমাণবিক ত্রয়ীর (সাবমেরিন, বোমারু বিমান এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র) উন্নয়ন।

বিশ্ব রাজনীতি এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব

  • সামরিক ভারসাম্য: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অস্ত্র প্রতিযোগিতা আগামী দিনে বৈশ্বিক নিরাপত্তার সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।

  • জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্য: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ব্যয় ও কার্যকলাপ বৃদ্ধি অপরিশোধিত তেলের মূল্য এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

  • কৌশলগত ভারসাম্য: আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিরক্ষা-শিল্প ভিত্তি এবং এই বাজেট ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আমেরিকার এই ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট শুধু একটি আর্থিক অঙ্ক নয়, বরং এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটির সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার অনমনীয় বার্তারই বহিঃপ্রকাশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *