মিউচুয়াল ফান্ড তো অনেক হলো! কোটিপতিদের জন্য সেরা অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড সম্পর্কে জানেন কি?

আধুনিক বিনিয়োগের বাজারে প্রচলিত মিউচুয়াল ফান্ড বা ফিক্সড ডিপোজিটের বাইরে বিত্তবান বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (Alternative Investment Fund বা AIF)। যেখানে সাধারণ মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণ মানুষের থেকে অল্প পুঁজি সংগ্রহ করে বাজারে বিনিয়োগ করে, সেখানে অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড মূলত বিত্তবান ব্যক্তি বা শিল্পপতি পরিবারগুলির গোষ্ঠী থেকে বিশাল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করে এবং তা তুলনামূলকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে থাকে। এই ধরণের তহবিলে বিনিয়োগ করতে হলে ন্যূনতম ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা বাধ্যতামূলক।
দেশের শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডকে মূলত তিনটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করেছে:
ক্যাটেগরি ১ – AIF (Category I AIF)
এই প্রকৃতির তহবিল মূলত নতুন ব্যবসা, স্টার্ট-আপ, দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায় বিনিয়োগ করে থাকে। এঞ্জেল ফান্ড (Angel Fund), ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড (Venture Capital Fund), ইনফ্রা ফান্ড, সোশ্যাল ভেঞ্চার ফান্ড এবং এসএমই (SME) ফান্ড ইত্যাদি এই ক্যাটেগরির আওতাভুক্ত।
বৈশিষ্ট্য: এটি দীর্ঘমেয়াদি (কমপক্ষে ৭ থেকে ১০ বছর) বিনিয়োগ। এতে তারল্যের (Liquidity) যথেষ্ট অভাব থাকে এবং ঝুঁকিও বেশি। ফলে এই ধরণের জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য সকলের জন্য কার্যকরী নয়, কেবল বিত্তবান পরিবারের বিনিয়োগের জন্যই এটি উপযুক্ত।
ক্যাটেগরি ২ – AIF (Category II AIF)
যে সমস্ত কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে কেনাবেচা হয় না এবং যাদের এখনও আইপিও (IPO) আসেনি, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে এই তহবিল বিনিয়োগ করে। প্রাইভেট ইকুইটি (Private Equity), ডেট ফান্ড, রিয়েল এস্টেট ফান্ড এবং স্ট্রাকচার্ড ক্রেডিট ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত। আর্থিক সংকটগ্রস্ত বা ঋণ পরিশোধে অক্ষম কোম্পানির সম্পদ যৌথভাবে ঋণপত্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বৈশিষ্ট্য: এই ঋণপত্রগুলি অতিরিক্ত ঝুঁকিগ্রস্ত হওয়ায় এদের সুদের হার ফিক্সড ডিপোজিটের মতো সাধারণ স্থির আয়যুক্ত পণ্যের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয়। এতে লিকুইডিটি বা তারল্য থাকে না বললেই চলে এবং ৪ থেকে ৮ বছরের মেয়াদ অবধি এই বিনিয়োগ ধরে রাখতে হয়।
ক্যাটেগরি ৩ – AIF (Category III AIF)
এই তহবিল বেশ জটিল এবং এতে অতিরিক্ত লিভারেজের (Leverage) ব্যবহার করা হয়। ডেরিভেটিভ বা ফাটকা বাজারে অতিশয় ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত রিটার্ন দেওয়ার চেষ্টা করে এই ফান্ড। লিভারেজ কথার অর্থ হলো টাকা ধার করে তা বাজারে বিনিয়োগ করা। তবে বাজারে লোকসান হলে এই লিভারেজের কারণেই ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। পাইপ ফান্ডস (PIPE – Public Investment in Private Equity) এই ক্যাটেগরির অধীনস্থ।
সতর্কতা ও পরামর্শ
আধুনিক বিনিয়োগের দুনিয়ায় বিত্তবানদের জন্য তৈরি এই অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডগুলি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তবে এর জটিলতা ও উচ্চ ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে, এই ধরনের ফান্ডে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই কোনো অভিজ্ঞ বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া বাঞ্ছনীয়।