“ককরোচ জনতা পার্টি”র বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ দিল্লি! বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন, ইন্টারনেট পরিষেবাও স্তব্ধ

প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজধানী। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকে যন্তর-মন্তর চত্বরে চলা বিক্ষোভের জেরে গোটা দিল্লি জুড়েই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজধানীর নিরাপত্তা আরও বহুগুণ বাড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ।

বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন ও কড়া নিরাপত্তা
রাজধানীর সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেন্ট্রাল দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে—

লোক কল্যাণ মার্গ

রাজীব চক

প্যাটেল চক

রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ

সুপ্রিম কোর্ট

সেবা তীর্থ

জনপথ

মান্ডি হাউজ় ইত্যাদি

যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে শুধুমাত্র ইন্টারচেঞ্জ পরিষেবা (এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার সুবিধা) চালু রাখা হয়েছে, তবে এই স্টেশনগুলিতে সাধারণ যাত্রীদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিষিদ্ধ।

ইন্টারনেট বন্ধ ও সাইবার সেলের নজরদারি
পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে বুধবার রাত থেকেই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল। পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লি, নয়ডা, গুরগাঁও ছাড়াও ভিন রাজ্যের ছাত্ররাও এবার দলে দলে যন্তর মন্তরে এসে যোগ দিচ্ছেন। দিল্লি সীমান্তের এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্টগুলিতেও তল্লাশি ও নজরদারি কঠোর করা হয়েছে।

সংঘর্ষ ও এফআইআর
বুধবার বিকেল থেকেই বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ ও সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের তরফে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মোট দশটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের অনড় অবস্থানের কারণে গতকাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা ভেস্তে যায়। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, তাঁরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবন বা দপ্তরে বৈঠকে বসবেন না, আলোচনা করতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ স্থানে।

সংসদ চত্বরেও প্রতিবাদের ঝড়
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আজ সকাল থেকেই সংসদ ভবন চত্বরেও রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। একদিকে বিজেপি সাংসদরা মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অন্যদিকে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সংসদীয় দলের নেতাদের বৈঠকের পর বিরোধীরাও একই স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি নিয়েছে। আজ সরকারের সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হয় কি না এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে গোটা দেশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *