প্রতি মাসে আসবে বিদ্যুতের বিল! কৃষকদের জন্য ইউনিট প্রতি ২ টাকা ছাড়, মেগা বাজেট পেশ রাজ্যের

রাজ্যবাসীর জন্য একগুচ্ছ স্বস্তিদায়ক ঘোষণা করে বিধানসভায় ৫ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বাজেট পেশ করল রাজ্য সরকার। বুধবার বিদ্যুৎ দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে কৃষক ও ছাত্রীদের স্বার্থে বেশ কিছু নতুন জনমুখী প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মূল ঘোষণা ও পরিবর্তনগুলি এক নজরে:
-
স্মার্ট মিটার ও বিল দেওয়ার নিয়ম বদল: সাধারণ মানুষের মধ্যে স্মার্ট মিটার নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে ডোমেস্টিক বা গৃহস্থালির ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বসানো আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। পাশাপাশি, তিন মাস অন্তর বিল দেওয়ার পুরনো নিয়ম বদলে আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল হাতে পাবেন গ্রাহকরা।
-
কৃষকদের জন্য বড় ছাড়: কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে আগামী ১ অগাস্ট ২০২৬ থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ২ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যে ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্প রূপায়ণের মাধ্যমে পাম্পগুলিকে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে।
-
আইসিডিএস ও স্কুলগুলির জন্য বিশেষ উদ্যোগ: রাজ্যের ৫৪ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি বা আইসিডিএস কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং আলো-পাখার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডব্লিউবিএসইডিসিএল-কে (WBSEDCL)। পাশাপাশি সিএসআর (CSR) তহবিলের মাধ্যমে রাজ্যের ১ হাজার উচ্চবালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে।
-
মেগা প্রকল্প ও পরিকাঠামো: বক্রেশ্বরে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সুপার ক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বক্রেশ্বর জলাধারে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ডিভিসির যৌথ উদ্যোগে পাম্প স্টোরেজ প্রকল্পেও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।