‘এটা সোজা আদালত অবমাননা!’ স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও বাড়ি ভাঙায় চরম ক্ষুব্ধ বিচারপতি, কড়া পদক্ষেপ

আদালতের স্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে এক বাসিন্দার বাড়ি ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠল ভাটপাড়া পুরসভার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট এটিকে সরাসরি ‘আদালত অবমাননা’ বলে মন্তব্য করেছে। বুধবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী আগামী কাল, বৃহস্পতিবার বেলা দুটোয় ভাটপাড়া পুরসভার প্রশাসক এবং ভাটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (OC) সশরীরে হাইকোর্টে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুরো ঘটনাটি কী?

  • অভিযোগ ও মামলার সূত্রপাত: ভাটপাড়ার বাসিন্দা জিতেন্দ্র কুমার রাউতের বাসস্থান সংলগ্ন একটি জুটমিলের তরফে দাবি করা হয় যে, আবেদনকারী জুটমিলের জমিতে বেআইনিভাবে বাসস্থান তৈরি করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভাটপাড়া পুরসভা ওই সম্পত্তি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারী।

  • আদালতের স্থগিতাদেশ: মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী আগামী ৪ অগস্ট পর্যন্ত বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর ওপর স্পষ্ট স্থগিতাদেশ জারি করেন।

  • নির্দেশ লঙ্ঘন করে ভাঙচুর: অভিযোগ, আদালতের এই নির্দেশ সত্ত্বেও পুরসভা ও পুলিশ বাড়ি ভাঙার কাজ চালিয়ে যায়। বিষয়টি আইনজীবীর মাধ্যমে ফের আদালতের নজর আনা হলে বিচারপতি বেলায় ভার্চুয়াল উপস্থিতির নির্দেশ দেন।

প্রশাসনের জবাবে অসন্তুষ্ট আদালত:

ভার্চুয়াল শুনানিতে পুরপ্রশাসক দাবি করেন যে, তিনি মাত্র আধ ঘণ্টা আগে আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জেনেছেন। কিন্তু এই জবাবে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, মামলার শুনানির সময় পুরসভার আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন, ফলে পুরসভার অনেক আগেই এ বিষয়ে অবগত থাকা উচিত ছিল।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ:

  • সশরীরে হাজিরা: বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোর মধ্যে ভাটপাড়া পুরসভার প্রশাসক ও থানার ওসিকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে হবে কেন তারা নির্দেশ অমান্য করলেন।

  • নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ: যেহেতু বাড়ির একটি অংশ ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাই মামলাকারীর যাতে আর কোনও সমস্যা না হয়— সে বিষয়ে ভাটপাড়া থানার ওসিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *