মাঝপথেই ভারত ও চিনের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ইউ-টার্ন! হুথিদের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ

ভারত ও চিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া তেলবাহী ট্যাঙ্কার মাঝপথেই নিজেদের রুট বদল করতে বাধ্য হয়েছে। ইয়েমেনের হুথিদের চরম হুমকির মুখে পড়ে সৌদি আরবের তিনটি তেল ট্যাঙ্কার লোহিত সাগর থেকে ঘুরে চলে যেতে বাধ্য হয়। ইরান সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর এবার বিকল্প রুট লোহিত সাগরেও তৈরি হয়েছে চরম নিরাপত্তা সংকট।

বিপদের মুখে কোন কোন জাহাজ?
সূত্রের খবর, যে তিনটি জাহাজ হুথিদের হুমকির মুখে পড়ে পথ বদল করেছে সেগুলি হলো—

শিন লং ইয়াং (Xin Long Yang)

দ্য রোডোস (The Rhodos)

দ্য অ্যামাজন (The Amazon)

লোহিত সাগরে ইয়েমেনের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই এই জাহাজগুলিকে হামলার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এরপর বাধ্য হয়েই তারা তাদের নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে সুয়েজ প্রণালীর দিকে সরে যায়।

হুথিদের ইমেল হুমকি ও নতুন সংকট
চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের জাহাজগুলিকে টার্গেট করতে শুরু করেছে। শিপিং কোম্পানিগুলিকে সরাসরি ইমেল পাঠিয়ে হুথিরা হুমকি দিয়েছে যে, সৌদি আরবের বন্দরে যেন কোনও কার্গো তোলা বা নামানো না হয়। এই নির্দেশ অমান্য করলে লোহিত সাগরের যে কোনও প্রান্তে জাহাজগুলির ওপর হামলা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক শক্তি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ফের এক ভয়াবহ সঙ্কটের কালো ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওমান উপকূল থেকে আরব সাগরের যোগাযোগ পথ একপ্রকার বন্ধ হয়ে পড়েছিল। সেই সময় বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরকে ব্যবহার করতে শুরু করে, যে রুট দিয়ে আগে প্রতিদিন গড়ে ১০টি করে ক্রুড ট্যাঙ্কার যাতায়াত করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিকল্প রুটও এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

মাঝপথেই কোথায় গেল জাহাজগুলি?
শিন লং ইয়াং: চিনগামী এই জাহাজটি গত সোমবার ইয়ানবু বন্দর থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল লোড করে রওনা দিয়েছিল। সুয়েজ প্রণালীর দিকে যাওয়ার কথা থাকলেও লোহিত সাগরে প্রবেশের আগেই এটিকে ‘ইউ-টার্ন’ নিতে হয়।

দ্য রোডোস: সৌদি আরব থেকে ৭ লক্ষ ব্যারেল ক্রুড তেল নিয়ে ভারতের দিকে আসছিল এই জাহাজটি। মঙ্গলবার এটিও বাধ্য হয়ে ইউ-টার্ন নিয়ে সুয়েজ প্রণালীর দিকে এগোতে শুরু করে।

দ্য অ্যামাজন: অপর একটি ক্রুড তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘অ্যামাজন’ও ভারতের উদ্দেশেই আসছিল। তবে মঙ্গলবার থেকেই এই জাহাজটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সেটির বর্তমান গতিবিধি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *