‘গুষ্সে সে খৌল রাহা হুঁ!’ দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি হিংসা দেখে আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ

দিল্লির জন্তর মন্তরে ‘কোকরাকাচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ মিছিলে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন ও লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ খুললেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনকারী তরুণ সমাজের ওপর চলা পুলিশের এই হিংসাত্মক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আবেগঘন ও ক্ষোভপ্রকাশক ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।

নাসিরুদ্দিন শাহের কড়া বার্তা
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিনেতা বলেন, “এই মুহূর্তে আমার বুক ভরা কষ্ট এবং আমি চরম রাগে ফুঁসছি। আমাদের বাচ্চাদের ওপর যেভাবে সেই গুণ্ডারা নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে, তা দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন আমেরিকার কোনো এজেন্ট— যাদের মুখে মুখোশ আর হাতে লাঠি। নিজেদের সন্তানদের কথা কখনও ভাবুন এবং এটাও মনে রাখুন যে আপনাদেরও এর পরিণাম একদিন ভোগ করতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে প্রবীণ এই অভিনেতা আরও বলেন, “আমি এই সমস্ত বাচ্চাদের বলতে চাই, আপনারা সাহস হারাবেন না। লক্ষ লক্ষ মানুষের সহানুভূতি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। আপনারা লড়াই চালিয়ে যান। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর আমার সবসময় ভরসা ছিল এবং আজ সেই ভরসা আরও জোরালো হয়েছে। এই লড়াইয়ে আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি।” একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, কোনো অযোগ্য বা বোধহীন মানুষের হাতে দেশের নেতৃত্ব গেলে এমন নিষ্ঠুরতাই সামনে আসে।

ভাইরাল ভিডিওর আসল সত্য
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও তাঁর দুই ছেলে—ভিওয়ান ও ইমাদ—দিল্লির জন্তর মন্তরে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভাইরাল হওয়া ওই পুরনো ভিডিওটি আদতে মুম্বাইয়ের রিগাল সিনেমায় একটি চলচ্চিত্রের স্ক্রিনিংয়ের সময়কার, এবং প্রবীণ অভিনেতা নিজে দিল্লির ওই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন না।

দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ ও মুম্বাইয়ে কড়াকড়ি
গত সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির জন্তর মন্তরে নিট পেপার লিক ও পরীক্ষার দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা পার্লামেন্ট অভিমুখে মার্চ করার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এই পুলিশি হানার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

দিল্লির পর এবার এই আন্দোলনের আঁচ গিয়ে পড়েছে বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়েও। কোকরাকাচ জনতা পার্টির (CJP) সমর্থকরা মুম্বাইয়ের রাস্তায় বিক্ষোভে নেমেছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মুম্বাই পুলিশ ২৩ জুলাই থেকে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত ৫ বা তার বেশি মানুষের জমাবেত, জনসভা, লাউডস্পিকার এবং আতশবাজি ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *