শেয়ার বাজারে ধামাকা এন্ট্রি এসবিআইয়ের! আইপিওতে লাভ পেলেও গ্রে মার্কেটের আশায় জল, জেনে নিন বর্তমান দাম

শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ করল SBI Funds Management-এর শেয়ার। সংস্থাটির ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা IPO নির্ধারিত ইস্যু প্রাইসের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ প্রিমিয়ামে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত (List) হয়েছে। এদিনের দুর্বল শেয়ার বাজারের মধ্যেও এই আইপিও ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
বিএসই (BSE) ও এনএসই (NSE)-তে লিস্টিংয়ের চিত্র
বিএসই (BSE): বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারটির লেনদেন শুরু হয় ৬১০ টাকায়, যা এর ৫৭৪ টাকার ইস্যু প্রাইসের চেয়ে প্রায় ৬.২৭ শতাংশ বেশি।
এনএসই (NSE): ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারটি ৬.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৬১৩.৩০ টাকায় লিস্ট হয়।
দিনের পরবর্তী সময়ে স্টকটি আরও কিছুটা গতি ধরে এবং বিএসই-তে সর্বোচ্চ ৬২৪.৮০ টাকা পর্যন্ত দর ওঠে। সকালের দিকে বিএসই-তে শেয়ারটি প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৬১৭.৫০ টাকায় এবং এনএসই-তে ৭ শতাংশ বেড়ে ৬১৫.৭০ টাকায় লেনদেন করছিল। উল্লেখ্য, এদিন সার্বিকভাবে শেয়ার বাজার দুর্বল ছিল; সেনসেক্স ২১৫ পয়েন্ট কমে ৭৭,৪৯৩.০৩ এবং নিফটি ৫০ পয়েন্টের বেশি কমে ২৪,১৮৮.১০ অঙ্কে নেমেছিল।
গ্রে মার্কেট বনাম বাস্তবের ফারাক
৯,৮১৩ কোটি টাকার এই বিশাল মাপের আইপিও নিয়ে লগ্নিকারীদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। লিস্টিংয়ের আগে গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা GMP ছিল প্রায় ৯৭ টাকা। সেই সুবাদে আশা করা হয়েছিল শেয়ারটি প্রায় ৬৭১ টাকায় (ইস্যু প্রাইসের থেকে প্রায় ১৬.৯% বেশি) খুলবে। তবে শেষ পর্যন্ত আসল লিস্টিং গ্রে মার্কেটের পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে।
সাবস্ক্রিপশন ও অন্যান্য তথ্য
সাবস্ক্রিপশন: ১৪ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত খোলা থাকা এই আইপিও মোট ৪১.৬৬ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল।
বিনিয়োগকারী বিভাগ: প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (QIB) অংশ ১৪০.১১ গুণ, অ-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (NII) অংশ ২২.৫১ গুণ এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের (RII) অংশ ৩.৬০ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়।
অফার ফর সেল (OFS): এই আইপিও-র প্রাইস ব্যান্ড ছিল প্রতি শেয়ারে ৫৪৫ টাকা থেকে ৫৭৪ টাকা। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ‘অফার ফর সেল’ ছিল, যেখানে মূল শেয়ারহোল্ডার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং Amundi যৌথভাবে ১৭১ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রি করেছে।
এই লিস্টিংয়ের ফলে প্রোমোটারদের শেয়ারহোল্ডিং ৯৮.২ শতাংশ থেকে কমে ৮৯.৮ শতাংশ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের বা পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং বেড়ে ১০.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে এই শেয়ারের লিক্যুইডিটি বা তারল্য আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।
ডিসক্লেমার: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা কখনও কোথাও সরাসরি বিনিয়োগের পরামর্শ দেয় না। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সবসময়েই ঝুঁকিসাপেক্ষ। তাই যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মার্কেট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।