ছবির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও কীভাবে ছিল কার্ড? তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে ইমেল সব্যসাচী বসুর

দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনার অবশেষে অবসান ঘটল। টলিউড পাড়ায় গুঞ্জন সত্যি করে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর গিল্ডের সদস্যপদ বাতিল করা হলো। সম্প্রতি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর গিল্ডের এগ্‌জিকিউটিভ কমিটি (Executive Committee)-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

কেন বাতিল হলো সদস্যপদ?

গিল্ড সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল সদস্যদের মনে। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর গিল্ডের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, স্বরূপ বিশ্বাস আদতে কোনোদিনই সহকারী পরিচালক বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ছিলেন না এবং সিনেমার শুটিং বা কোনো ছবির সঙ্গেই তাঁর দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক ছিল না। গিল্ডের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রমাণ চাওয়া হলেও তিনি নিজের স্বপক্ষে কোনো তথ্য বা নথি পেশ করতে পারেননি। আর সেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ থেকেই তাঁর গিল্ড কার্ড বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন বাকি সদস্যরা।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে ইমেল সব্যসাচী বসুর

শুধু গিল্ডের অন্দরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হওয়াই নয়, এই কার্ড বাতিল করার জন্য সরকারিভাবেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সব্যসাচী বসু সরাসরি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে ইমেল পাঠিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের অনারারি (Honorary) কার্ড বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, এই বিশেষ অনারারি কার্ডটিকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর ধরে কিছু অপ্রকাশিত ও অনৈতিক নিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার চলে আসছিল। যার জেরে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনা ও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল ইন্ডাস্ট্রির বৈধ এবং কর্মরত অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরদেরই।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক পরেই টলিউডের টেকনিশিয়ান ও পরিচালকদের অন্দরে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এমন কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *