‘যতই ঝড়-জল হোক, একুশে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান হবেই’,-কর্মীদের বার্তা দিলেন মমতা

২১ জুলাই শহিদ দিবসকে সামনে রেখে সোমবার সন্ধ্যায় সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কার্যত রণংদেহী মেজাজে দেখা গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মঞ্চের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তা, প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা: তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তাঁকে পদে পদে হয়রানি করছে। মমতা বলেন, “পুলিশের কোনো কর্ডন নেই, সিকিউরিটি নেই। এমনকি মিডিয়ার জন্য একটু জায়গা পর্যন্ত করার সৌজন্য দেখায়নি প্রশাসন। এই প্রতিকূল আবহাওয়া ও জল জমে থাকা অবস্থাতেও আমরা আয়োজন করছি, কিন্তু আমাদের স্টেজ সাজাতে অনর্থক দেরি করিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
বিজেপি ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে শহরের মোড়ে মোড়ে মিটিং করার পারমিশন দেওয়া হচ্ছে, অথচ আমার ক্ষেত্রে এত বাধা কেন? রেড রোডে যোগার প্যান্ডেলের জন্য সাত দিন রাস্তা বন্ধ রাখা যায়, কিন্তু আমার ৪০ বছরের পুরনো এই সভায় অনুমতি দিলে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো?”
ঝাড়খণ্ড-বিহার থেকে লোক আনার অভিযোগ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের সভায় আসা রুখতে তাদের ট্রেনের টিকিট আটকে দেওয়া হয়েছে এবং থাকার জায়গা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উল্টে বিজেপি ঝাড়খণ্ড এবং বিহার থেকে লোক এনে এ রাজ্যে ভিড় জমানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। তৃণমূল কর্মীরা প্রতিকূলতার মধ্যেও শুধুমাত্র “প্রাণের টানে” সভায় উপস্থিত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
দিল্লি ও সিজেপি প্রসঙ্গ: এদিন দিল্লির ঘটনা নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ছাত্র আন্দোলন ও সোনম ওয়াংচুকের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “দিল্লি পুলিশ যেভাবে ছাত্রদের ওপর অত্যাচার করেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি ভেবেছিলাম ২১ জুলাইয়ের পর দিল্লি যাব, কিন্তু এখন দেখছি ওদের জোর করে অনশন ভাঙানো হয়েছে।” পাশাপাশি জেলা স্তরে তৃণমূল কর্মীদের থানায় আটকে রাখার অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন।
আদালতের শর্ত: উল্লেখ্য, এই সমাবেশ নিয়ে শাসকদল ও রাজ্য প্রশাসনের আইনি লড়াই গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। ১৫ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে কিছু শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি মেলে:
-
জনসংখ্যা: সর্বোচ্চ ৩ হাজার মানুষ নিয়ে সভা করা যাবে।
-
সময়সীমা: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত।
-
রাস্তা: একদিকের রাস্তা যান চলাচলের জন্য সচল রাখতে হবে।
-
স্বেচ্ছাসেবক: সভায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে।
রাজ্যের তরফে হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকা হওয়ায় আপত্তি জানানো হলেও, শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশেই সভার আয়োজন করছে তৃণমূল। এখন ২১ জুলাইয়ের দুপুরে এই সভা ও মমতার পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।