পিছনে পাঠানো হল অভিষেককে, আলাদা আসনে বসবেন ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ!

সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই লোকসভার অভ্যন্তরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠল। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগদানের স্বীকৃতি এবং তাদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করার পরেই লোকসভা সচিবালয় মোট ৩৯ জন সাংসদের আসন পরিবর্তনের নির্দেশিকা জারি করেছে।
কেন এই রদবদল? স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ, যাঁরা ইতিমধ্যে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের মূল দল থেকে আলাদা বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ২০ জনকে নতুন জায়গা করে দিতে গিয়েই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ মোট ৩৯ জন সাংসদের সিট পরিবর্তন করতে হয়েছে।
অভিষেক ও প্রথম সারির সাংসদদের নতুন আসন: আসন পরিবর্তনের ফলে লোকসভার প্রথম সারি থেকে সরে যেতে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে ৮-এ নেমে আসায় তিনি এখন দ্বিতীয় সারিতে বসবেন। নতুন তালিকায় উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন:
-
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: আগে যে আসনে বসতেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন অভিষেক সেখানে (২৮১ নম্বর আসন) বসবেন।
-
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ২৮০ নম্বর সিটের বদলে তিনি এখন ৩৫৪ নম্বর সিটে বসবেন।
-
মহুয়া মৈত্র: ২৮৯ থেকে বদলে তাঁর আসন হয়েছে ৩১১।
-
কাকলি ঘোষ দস্তিদার: ২৮৫ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ২৭৯ নম্বর আসনে বসবেন।
-
সৌগত রায়: নতুন আসন নম্বর ৩০২।
-
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: ৩০৩ নম্বর আসন।
-
এছাড়াও সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠানসহ অন্যান্য সাংসদদেরও নতুন আসন ও বিভাগ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।
আসন বিভাগ নম্বর ও গুরুত্ব: সংসদে একজন সাংসদের বিভাগ নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলের ওপর ভোটদান, নথিপত্রে স্বাক্ষর এবং সংসদীয় বিভিন্ন কাজে এই নম্বরটি ব্যবহৃত হয়। ৩৯ জন সাংসদ সোমবার থেকে তাঁদের নতুন এই বিভাগ নম্বর ও আসন ব্যবহার করছেন।
উল্লেখ্য, স্পিকার ওম বিড়লা গত শনিবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন—এক, শিবসেনার একাংশের সাথে একনাথ শিন্ডে শিবিরের মার্জ হওয়া এবং দুই, ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদকে আলাদা বসার অনুমতি। লোকসভার অন্দরে এই রদবদলকে তৃণমূলের রাজনৈতিক ভাঙনের সরাসরি প্রতিফলন হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।