‘সবই ভণ্ডামি!’ স্বামীকে জোর করে হাসপাতালে রাখার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী

পরিবেশকর্মী ও সমাজ সংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতি ও হাসপাতাল বদল সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আইনি লড়াই এখন সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায়। রবিবার দিল্লি হাইকোর্ট সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর, তাঁর স্ত্রী ডঃ গীতাঞ্জলি আংমো শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

কী অভিযোগ গীতাঞ্জলির? স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সরাসরি সরকারি পদক্ষেপ ও হাসপাতাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি:

  • স্বাস্থ্যের অবনতির দাবি মিথ্যা: গীতাঞ্জলির অভিযোগ, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও তাঁকে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রক্ত পরীক্ষায় তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা (৪.৩) এবং অন্যান্য প্যারামিটার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

  • ভণ্ডামির অভিযোগ: তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত থাকত, তবে এত নৃশংসভাবে স্ট্রেচারে শুইয়ে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে আসত না। এই পুরো ‘উদ্বেগ’ আসলে একটি ভণ্ডামি।”

  • মিছিল আটকানোর কৌশল: ডঃ আংমো আরও অভিযোগ করেন যে, সরকার মূলত সোনমের প্রস্তাবিত মিছিল নিয়ে ভীত। তাঁরা মনে করছেন সোনম মিছিলে অংশ নিলে সাধারণ মানুষের ঢল নামবে, তাই আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের নামে তাঁকে আটকে রাখা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদনের আর্জি দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে গীতাঞ্জলি ভারতের প্রধান বিচারপতির (CJI) কাছে মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছেন। পরিবারের আশা, সোমবরাই আদালত এই বিষয়ে কোনো নির্দেশ দেবে।

গণতন্ত্রের প্রশ্নে উদ্বেগ গীতাঞ্জলি আংমোর মতে, এই পুরো ঘটনাটি দেশের বিচারব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনিক কাঠামোর অপব্যবহারের একটি বড় নিদর্শন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের দমনমূলক আচরণ উল্টে জনমানসে প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং মানুষ এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হচ্ছে।

সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন ব্যক্তিত্বের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের এই অবস্থান এখন জাতীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *