পুলিশ থেকে কাউন্সিলর, বেআইনি নির্মাণের টাকা বিলি! সোনা পাপ্পুর কাণ্ডে বিস্ফোরক ED-র চার্জশিট

কসবার সিন্ডিকেট মাফিয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’র বিরুদ্ধে পেশ করা চার্জশিটে বিস্ফোরক সব তথ্য প্রকাশ্যে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। গ্রেফতারির ৬০ দিনের মাথায় পেশ করা এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে উঠে এসেছে কীভাবে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ হিসেবে পৌঁছেছে প্রভাবশালী মহল ও সরকারি আধিকারিকদের হাতে।

চার্জশিটে উঠে আসা ভয়াবহ তথ্য: তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২২ সালে বেআইনি নির্মাণের পথ প্রশস্ত করতে সোনা পাপ্পু প্রায় ১৯ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন। এর মধ্যে ৩ কোটি ৪১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা শুধুমাত্র ‘ঘুষ’ হিসেবেই খরচ হয়েছে।

টাকা গেল কোথায়? ইডি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে:

  • পুলিশের পকেটে: কসবা থানার আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা।

  • কাউন্সিলর ও পুরসভা: তৃণমূল কাউন্সিলরদের ১ কোটি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং পুরসভার আধিকারিকদের ২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে দেওয়ার অভিযোগ।

  • পার্টি ফান্ড ও ডোনেশন: পুজোর ডোনেশন এবং পার্টি ফান্ডের নামে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫৫ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা।

কীভাবে চলত দুর্নীতি? চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা পুরসভার কোনো অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক বেআইনি নির্মাণ চালিয়েছে সোনা পাপ্পু। এমনকি ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রেও কোনো রেজিস্ট্রি বা বৈধ নথি রাখা হয়নি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় শাসকদলের প্রভাবকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান ও প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্র সরোবর থানার গোলপার্কে এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে বোমাবাজি ও গুলির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় থেকেই ফেরার ছিলেন সোনা পাপ্পু। দীর্ঘ লুকোচুরির পর অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চার্জশিট তৃণমূলের অন্দরে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। এখন দেখার, ইডির এই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *