কেন বাড়ি ছেড়েছিল ১৫ বছরের প্রতিভাবান শুটার? মেয়ের ফিরে আসার পর আসল কারণ জানালেন বাবা।

৪৮ ঘণ্টার উৎকণ্ঠার অবসান। টানা দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলো হাওড়ার উদীয়মান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেনকে। শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর গঙ্গার ঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন তাঁর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দময়ন্তীর পরিবার তথা বাংলার ক্রীড়ামহল।

উদ্ধারের ঘটনা: বৃহস্পতিবার সকালে দুধ ও বাড়ির কিছু জিনিস কিনতে বেরিয়ে আর ফেরেনি দময়ন্তী। সঙ্গে মোবাইল না থাকায় পুলিশ ও পরিবারের পক্ষে তাকে ট্রেস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শনিবার সকালে এক প্রাতঃভ্রমণকারীর কাছ থেকে খবর পান তার বাবা। দ্রুত রামকৃষ্ণপুর ঘাটে পৌঁছে দেখেন, লঞ্চঘাটের টিকিট কাউন্টারের এক কোণে বসে কাঁদছে মেয়ে। বাবাকে দেখেই তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে দময়ন্তী। বাড়িতে ফেরার পর সে এখন অনেকটাই শান্ত ও স্বাভাবিক আছে বলে পরিবার সূত্রে খবর।

বাড়ি ছাড়ার কারণ: কেন এই হঠকারী সিদ্ধান্ত? দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানিয়েছেন, ১৫ বছর বয়সের কিশোরী দময়ন্তী তার পড়াশোনা ও শুটিংয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিল। সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা, এদিকে শুটিংয়ের জন্য প্রতিদিন আট-নয় ঘণ্টা প্র্যাকটিস—সব মিলিয়ে সে নিজেকে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত মনে করছিল। তিনি বলেন, “ও বোধহয় নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে শুরু করেছিল। এই চাপ ও উৎকণ্ঠা থেকেই হয়তো বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।”

কোথায় কোথায় গিয়েছিল দময়ন্তী? সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাওড়া স্টেশন থেকে সে শ্রীরামপুরগামী লোকাল ট্রেনে উঠেছিল। শ্রীরামপুরে মহেশের রথযাত্রায় রথের দড়িও টেনেছে সে। আধ্যাত্মিকতার প্রতি সহজাত টান থাকায় সে লক্ষ্যহীনভাবে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সে নিজেই হাওড়ায় ফিরে আসার চেষ্টা করছিল এবং শনিবার ভোরে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে পৌঁছায়। ঘটনার নেপথ্যে কোনো অপরাধমূলক যোগ নেই বলেই জানিয়েছে পুলিশ।

ক্রীড়ামহলে স্বস্তি: দময়ন্তীর এই উদ্ধার হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাঁর কোচ এবং অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকার। দময়ন্তীর মা মৌমিতা রায় সেনও সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশ, প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আপাতত পড়াশোনা ও খেলা—উভয়ের মাঝেই সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পরিবার তাকে সবরকম মানসিক সহায়তা প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *