ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় কেন নিষেধাজ্ঞা মেলার ওপর? মালদাবাসীর জন্য বড় খবর

মালদার জালালপুরের অতি প্রাচীন রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মেলা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা মালদা জেলা সদরের এসডিওকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, অবিলম্বে পুলিশি সহায়তায় মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সমস্ত দোকানপাট সরিয়ে ফেলতে হবে। এই নির্দেশের ফলে আপাতত থমকে গেল ঐতিহ্যবাহী এই মেলার আয়োজন।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? জানা গেছে, জালালপুরের এই রথযাত্রাটি চৌধুরী পরিবারের পারিবারিক ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। অভিযোগ, রথযাত্রার আড়ালে রথযাত্রা কমিটির একাংশ জোর করে সেখানে মেলার আয়োজন করে আসছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিনের জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিতর্ক রয়েছে।

এর আগে গত বছর ২৫ জুন বিচারপতি অমৃতা সিনহা ব্যক্তিগত রথযাত্রার জমিতে মেলা করার অনুমতি খারিজ করে দিয়েছিলেন। কারণ, আইনি নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে জোর করে মেলা করা যায় না।

আদালতে কী জানাল প্রশাসন? এদিন মামলাটি ফের আদালতে উঠলে মালদা সদরের এসডিও জানান, রথযাত্রার অনুমতি থাকলেও মেলার কোনো বৈধ অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও মেলা উপলক্ষে মাইক ও লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে তাতে স্পষ্ট শর্ত ছিল যে জমি মালিকের অনুমতি ছাড়া মেলার আয়োজন করা যাবে না।

কিন্তু শর্ত অমান্য করে মেলা চলায় মামলাকারী শঙ্কর প্রসাদ চৌধুরী আদালতের দ্বারস্থ হন। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সিনহা ক্ষুব্ধ হয়ে মেলা বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দেন।

ঐতিহ্য বনাম বিতর্ক: ১৯৮৪ সাল থেকেই জালালপুরের এই রথযাত্রা ও মেলার এলাকাটি ঘিরে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা দানা বেঁধেছিল। এরপর থেকেই প্রশাসন সাধারণত এই এলাকায় মেলা করার অনুমতি দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। হাইকোর্টের এই নতুন নির্দেশ সেই পুরনো আইনি জটিলতাকেই আরও স্পষ্ট করল।

এদিন আদালতের নির্দেশের পর এলাকা থেকে দোকানপাট সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার পবিত্রতা বজায় রাখা এবং জমি সংক্রান্ত আইনি বিবাদের কারণেই আদালত এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *