‘২০১৪ সালের আগে হলে দেশে ট্রেনই চলত না…’ জেনেনিন কেন একথা বললেন মোদী?

আজ হরিয়ানার মাটি থেকে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি উদ্বোধন করলেন ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের। জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত চলা এই ট্রেনটি আধুনিক প্রযুক্তি ও ভারতীয় প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য মেলবন্ধন।
হাইড্রোজেন ট্রেনের বিশেষত্ব: বিশ্বের হাতেগোনা ৩-৪টি দেশের পর এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল ভারত। প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন। এর বৈশিষ্ট্যগুলো এক নজরে:
-
ক্ষমতা: ৩,৪০০ হর্সপাওয়ার।
-
দৈর্ঘ্য: এটি বিশ্বের দীর্ঘতম হাইড্রোজেন ট্রেন, যার ১০টি কোচ রয়েছে (অন্য দেশে সাধারণত ৩-৪টি কোচ থাকে)।
-
প্রযুক্তি: সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের নকশায় এবং দেশীয় সংস্থায় নির্মিত, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের এক বিশাল সাফল্য।
-
রুট: প্রাথমিকভাবে ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে এই ট্রেন।
তেল সঙ্কটের মোকাবিলা: প্রধানমন্ত্রী এদিন হরমুজ প্রণালী ও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করেন। তিনি বলেন, “গত ৩-৪ মাস ধরে সমুদ্রপথে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি আমদানিতে প্রভাব পড়েছে। ২০১৪ সালের আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতের রেল ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ত, কারণ তখন ট্রেন চলত ডিজেলের ওপর নির্ভর করে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি ২০১৪ সালের ভারত নয়, এটি নরেন্দ্র মোদীর ভারত। আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেই কাজ করেছি।” প্রধানমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে ভারতের ৯৯ শতাংশ এবং হরিয়ানার ১০০ শতাংশ রেল নেটওয়ার্কের বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এই বিদ্যুতায়নের কারণেই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তেলের সঙ্কট থাকলেও ভারতের রেল পরিষেবা থেমে নেই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জিন্দ ও সোনিপতের এই হাইড্রোজেন ট্রেন ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ২১ শতাব্দীর এই প্রযুক্তি ভারতের উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।