সরকারি স্কুলেই মিলবে বেসরকারি স্কুলের সুবিধা! শিক্ষকদের বাড়িতে যেতে হবে পড়ুয়া খুঁজতে

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আকাশছোঁয়া ফি এবং অতিরিক্ত খরচের বোঝা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোয় বেসরকারি স্কুলের সমকক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক—জেলার প্রতিটি সরকারি স্কুলকেই এই আধুনিকীকরণের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
স্মার্ট ক্লাসরুম থেকে অত্যাধুনিক রান্নাঘর শিক্ষা দফতরের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলে তৈরি হবে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম। শুধু তাই নয়, মিড-ডে মিলের রান্নাঘরগুলোকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক করে তোলা হবে। স্কুল ক্যাম্পাসে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে পড়ুয়ারা কেবল পাঠ্যবই নয়, সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে।
দায়বদ্ধতায় কড়া নজরদারি পরিকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্কুলে দেরি করে আসার বা ঠিকমতো ক্লাস না নেওয়ার যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তা ঠেকাতে এবার কড়াকড়ি শুরু হতে চলেছে। নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদানের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে। পাশাপাশি, যেসব স্কুলের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ, সেগুলোতে অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
ড্রপআউট রুখতে ‘ডোর টু ডোর’ শিক্ষক স্কুলছুট হওয়া পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনতে এবং নাবালিকা বিয়ে রুখতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে কোনো পড়ুয়া হঠাৎ স্কুল আসা বন্ধ করলে, তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেবেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই পদ্ধতি নাবালিকা বিয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি রুখতেও সাহায্য করবে বলে আশা শিক্ষা দফতরের।
সবকিছুর মূলে ‘শিক্ষক সংকট’ এই মহাপরিকল্পনা সফল করার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, জেলার অনেক স্কুলেই প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম। আবার কোথাও কোথাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাবে শহরের স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত নিয়োগ এবং গ্রামীণ এলাকায় চরম শিক্ষক সংকটের যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
পরিকাঠামোর পাশাপাশি এই ভারসাম্যহীনতা দূর করা গেলেই কি সরকারি স্কুলগুলোতে অভিভাবকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরবে? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।