প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার ছবি সিসিটিভিতে! অপরাধীকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে অভিনব পন্থা নিলেন পুরকর্তারা

শহরের দেওয়াল বা রাস্তার ধারে যেখানে সেখানে প্রস্রাব করা কিংবা পানের পিক ফেলার মতো অসামাজিক অভ্যাস রুখতে দীর্ঘ সময় ধরে নানা সচেতনতা মূলক প্রচার চালিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি সুরাহা মেলেনি। এবার এই সমস্যার সমাধানে অসমের তিনসুকিয়া পৌরসভা এমন এক পথ বেছে নিয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে জোর চর্চা।

কী করছে পৌরসভা?
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে বিশাল বিশাল এলইডি স্ক্রিন। শহরের প্রধান প্রধান রাস্তায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি চালানো হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা। যারা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করছেন বা থুতু ফেলছেন, তাদের সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে ওই বড় স্ক্রিনগুলোতে। পৌরসভার ভাষায়, এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘হল অফ শেম’ (Hall of Shame) বা লজ্জার আধার। উদ্দেশ্য একটাই—জনসমক্ষে লজ্জা দিয়ে মানুষকে এমন কাজ থেকে বিরত করা।

প্রশংসা ও বিতর্ক
পৌরসভার এই উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জরিমানা দিয়েও যখন মানুষ সুধরাচ্ছেন না, তখন এই ‘লজ্জা দেওয়ার কৌশল’ দ্রুত ফল দিতে পারে। তবে মুদ্রার অন্য পিঠও রয়েছে। শহরের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘রাইট টু প্রাইভেসি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমালোচকদের মতে, এইভাবে প্রকাশ্যে কারও ছবি দেখানো আইনি এবং নৈতিক দিক থেকে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যায়।

প্রভাব কতটা পড়বে?
তিনসুকিয়া পৌরসভার এই অভিনব পন্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ একে অমানবিক বলছেন, কেউ আবার একে বর্তমান সময়ের কঠিন অসুখের কঠিন চিকিৎসা বলে অভিহিত করছেন। এখন দেখার বিষয়, এই চরম লজ্জার মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে সত্যিই কি তিনসুকিয়ার রাস্তায় गंदगी ছড়ানোর প্রবণতা কমে, নাকি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে পৌরসভাকে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *