নিষ্ক্রিয় সোনা থেকে আয়ের সুযোগ! কীভাবে কাজ করবে NSE ও অগমন্টের এই নতুন ব্যবস্থা?

ঘরে পড়ে থাকা অলস সোনাকে দেশের অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)। ভারতের ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিট (EGR) ব্যবস্থাকে আরও মজবুত ও জনপ্রিয় করে তুলতে অগমন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে NSE। এই উদ্যোগ সোনা কেনাবেচার বাজারকে স্বচ্ছ এবং আরও সহজতর করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

EGR আসলে কী এবং কেন এই চুক্তি? ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিট বা EGR হলো শেয়ারের মতো এক ধরনের ডিজিটাল সিকিউরিটি। এর মাধ্যমে ভৌত সোনাকে ডিম্যাটেরিয়ালাইজড সিকিউরিটিতে রূপান্তরিত করে সাধারণ ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে রাখা যায়। অগমন্ট এন্টারপ্রাইজেসের সঙ্গে এই পার্টনারশিপের মূল লক্ষ্য হলো:

  • EGR তৈরি, ভাঙানো এবং নগদ জোগানের প্রক্রিয়াকে সহজ করা।

  • বাজারে সোনা কেনাবেচার সঠিক দাম নির্ধারণের স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

  • গয়না ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ মানুষকে এই প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি করে শামিল করা।

অর্থনীতিতে এর প্রভাব ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট পৃথ্বীরাজ কোঠারির মতে, ভারতে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টন সোনা ব্যক্তিগত ভাণ্ডারে অলস অবস্থায় পড়ে আছে। এই বিপুল পরিমাণ সোনা যদি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় আসে, তবে তা নগদের জোগান বাড়াবে এবং নতুন করে সোনা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।

সোনা থেকে আয়ের নতুন দিশা অগমন্ট গোল্ডটেকের প্রতিষ্ঠাতা কেতন কোঠারি জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা ভারতের গোল্ড ফিনান্সিং খাতে বিপ্লব আনতে পারে। সাধারণ মানুষ তাদের সোনা বা কয়েনকে EGR-এ রূপান্তরিত করে সিকিউরিটিজ লেন্ডিং অ্যান্ড বরোয়িং (SLB) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ হিসেবে দিতে পারবেন এবং তার বিনিময়ে সুদ আয় করতে পারবেন। কোঠারির অনুমান, আগামী কয়েক বছরে এই প্ল্যাটফর্মের অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট (AUM) বর্তমানের তুলনায় ১০০ গুণ বাড়তে পারে।

NSE-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও আশিস কুমার চৌহান জানিয়েছেন, সেবি (SEBI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই প্ল্যাটফর্মটি যোগ্য সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য উন্মুক্ত। ভল্ট ম্যানেজার থেকে শুরু করে গয়না ব্যবসায়ী—সবাই এই আধুনিক ও নিরাপদ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবেন।

সোনার বাজারে বিনিয়োগের এই নতুন ও স্বচ্ছ মাধ্যম সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী দিনে আয়ের এক বড় সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *