‘অভিষেকের জন্যই শেষ মমতা!’ দলত্যাগী অনুব্রতর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে যোগ দিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। রাজনৈতিক মহলে এই দলত্যাগ বড়সড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এদিন সাংবাদিকদের সামনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করে তিনি দাবি করেন, তাঁর জেলযাত্রার পিছনে আসল কারিগর ছিলেন অভিষেকই।
অভিষেকই দায়ী? বিস্ফোরক দাবি অনুব্রতর: দীর্ঘদিন ধরে গোরু পাচার মামলায় জেলবন্দি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এতদিন পর মুক্তি পেয়েই তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” যদিও এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা প্রমাণ তিনি পেশ করেননি। ইঁটভাটা সংক্রান্ত মামলার কারণে তিনি দল বদলেছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ওসব বাজে কথা। আমি ওসবে ভয় পাই না।”
মমতা ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য: অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যে তৃণমূলের জন্য বিপর্যয়ের হবে, তা তিনি আগেই আন্দাজ করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর নেত্রী তাঁকে চারবার ফোন করেছিলেন। এর উত্তরে তিনি নেত্রীকে নাকি বলেছিলেন, “চোখে দেখো না, কানে দেখো তুমি।” অনুব্রতর মতে, তৃণমূলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার জন্য একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বই দায়ী এবং ভবিষ্যতে মমতা শিবিরে আর কেউ থাকতে চাইবেন না।
তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: উল্লেখ্য, অনুব্রত মণ্ডলের এই দলবদলের দিনেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রও মমতাপন্থী তৃণমূল ত্যাগ করে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার এই শিবির পরিবর্তন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রতর মতো জেলাস্তরের প্রভাবশালী নেতার এহেন বিদ্রোহ ও অভিষেকের প্রতি সরাসরি আক্রমণ আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইকে আরও জটিল করে তুলল।