ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে ভুয়া দাবি করছেন? বড় বিপদে পড়ার আগে সতর্ক হন, জেল পর্যন্ত হতে পারে!

অনেকেই করের বোঝা কমাতে আয়কর রিটার্নের (ITR) সময় ডিডাকশন বা খরচের হিসাব বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে এমন বিনিয়োগের দাবি করা হয় যা আদতে করাই হয়নি, অথবা নকল রসিদ দেখিয়ে কর বাঁচানোর কৌশল নেন অনেকে। আয়কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে এটি সহজ মনে হলেও, আয়কর আইনের অধীনে এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ।
কেন এখন নজরদারি অনেক বেশি?
আয়কর বিভাগ এখন সম্পূর্ণ ডেটা-নির্ভর। আপনার এপ্লয়ার, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য এবং অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (AIS) ও ফর্ম ২৬এএস (26AS)-এর সাথে প্রতিটি তথ্যের মিল খুঁজে দেখা হয়। ফলে যেকোনো গরমিল ধরা পড়ার সম্ভাবনা এখন শতভাগ।
কী হতে পারে ভুল করলে?
আয়কর আইনের ধারা ২৭১এএডি (271AAD) অনুযায়ী, যদি কোনো করদাতা আয় কমানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল এন্ট্রি বা তথ্য প্রদান করেন, তবে সেই ভুলের পরিমাণের সমান অর্থ—অর্থাৎ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ, কর বাঁচানোর চেয়ে জরিমানা দেওয়ার অংক অনেক বেশি হতে পারে।
আন্ডার-রিপোর্টিং বনাম মিস-রিপোর্টিং:
ধারা ২৭০এ (270A) অনুযায়ী, আপনার ভুলের ধরণভেদে জরিমানা নির্ধারিত হয়:
আন্ডার-রিপোর্টিং: তথ্য ভুল বা ক্যালকুলেশনে ভুল থাকলে বকেয়া করের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
মিস-রিপোর্টিং: আয়ের উৎস গোপন করা, ভুয়া খরচ দেখানো বা তথ্য বিকৃত করলে তা মিস-রিপোর্টিং হিসেবে গণ্য হয়। এক্ষেত্রে বকেয়া করের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে।
জেল হওয়ার ঝুঁকি কতটুকু?
যদি আয়কর বিভাগ প্রমাণ পায় যে আপনি সচেতনভাবে বড় ধরণের জালিয়াতি বা কর ফাঁকি দিয়েছেন, তবে ধারা ২৭৬সি (276C) এবং ২৭৭-এর অধীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী, ৩ মাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বিশেষ করে যারা জাল নথিপত্র তৈরি করেন বা প্রফেশনাল মিডিয়েটরদের মাধ্যমে ভুয়া দাবি করার মতো বড় জালিয়াতিতে যুক্ত হন, তাদের ওপরই আয়কর বিভাগ কড়া নজর রাখে। তাই রিটার্ন দাখিল করার সময় সমস্ত তথ্য সঠিক রাখা এবং যথাযথ নথিপত্র বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।