“ক্যামাক স্ট্রিটই দলটাকে শেষ করে দিল'”-অভিষেককে ফের আক্রমণ কল্যাণের

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা দিয়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্টভাষায় আক্রমণ করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সরাসরি নাম না করলেও তাঁর নিশানা যে কোথায়, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন কল্যাণ।

‘ক্যামাক স্ট্রিটই দলটাকে শেষ করে দিল’ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “ক্যামাক স্ট্রিটই দলটাকে শেষ করে দিয়েছে।” অভিষেকের নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে কল্যাণ জানান, দলের ভরাডুবির নেপথ্যে রয়েছে এই ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ সংস্কৃতি। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্র থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে দলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত, যা তৃণমূলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ কেন এমন কথা বলছেন, তার ব্যাখ্যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। কল্যাণের অভিযোগ:

  • সুমিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে দলের কর্মীদের পুলিশি হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

  • শালবনির কেসের ভয় দেখিয়ে কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত সদস্যদের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

  • যারা অভিষেকের আপ্ত সহায়কের সঙ্গে সংগঠন চালানোর বিষয়ে কথা বলেছেন, তাঁদেরই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে।

কল্যাণের আরও দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ১৪ হাজার মামলা দায়ের হয়েছে, যার সিংহভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে। তৃণমূলের নিচুতলার অনেক কর্মী-সমর্থক আজ পুলিশের এই দমন-পীড়নের শিকার।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অনেক হেভিওয়েট নেতা—যেমন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ বা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মমতা-ঘনিষ্ঠরা দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তাঁরা নিজেদেরই এখন ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন। তবে এই দলবদলের মিছিলে পা না বাড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন কল্যাণ। কিন্তু একই সঙ্গে অভিষেকের কার্যপ্রণালীর বিরুদ্ধে তাঁর এই সরাসরি বিদ্রোহ দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তির বাতাবরণ তৈরি করল।

যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা সুমিত রায়ের তরফ থেকে এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য রাজনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকটের ছবিটা আরও স্পষ্ট করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *