কলকাতায় এবার চালকহীন মেট্রো! গ্রিন লাইনে মিলল সবুজ সংকেত

তিলোত্তমার মুকুটে জুড়তে চলেছে নতুন পালক। খুব শীঘ্রই কলকাতার ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডোরে (গ্রিন লাইন) চালু হতে চলেছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা চালকহীন মেট্রো পরিষেবা। সম্প্রতি ‘কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি’ (CRS)-এর কাছ থেকে এই পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র মিলেছে। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ৫ পর্যন্ত রুটটিতে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কী এই চালকহীন মেট্রো প্রযুক্তি? এই মেট্রো কোনো লোকোমোটিভ চালক ছাড়াই চলবে। পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (OCC) থেকে। এর প্রধান তিনটি স্তম্ভ হলো:
-
CBTC (কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল): এটি মেট্রোর ‘মস্তিষ্ক’, যা ট্রেনের অবস্থান ও গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখে।
-
OCC (অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টার): কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অপারেটররা পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন।
-
ATO (অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন): ট্রেনের ভেতরে থাকা স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার ব্যবস্থা, যা নিখুঁতভাবে ট্রেন চালানো ও স্টেশনে থামানোর কাজটি করে।
যাত্রীদের জন্য কী কী সুবিধা? ১. দ্রুত পরিষেবা: দুটি ট্রেনের মধ্যে অপেক্ষার সময় কমে ৯০ থেকে ১০০ সেকেন্ডে নেমে আসবে। ২. নিরাপদ যাতায়াত: চালকহীন প্রযুক্তিতে ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ট্র্যাকের ৫০ মিটার সামনে কোনো বাধা দেখলেই ট্রেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষতে সক্ষম। ৩. গতি ও সাশ্রয়: ঘণ্টায় ৮৫ কিমি গতিতে এই ট্রেন ছুটতে পারবে এবং আগের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচও কম হবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা: অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, চালক না থাকলে জরুরি অবস্থায় কী হবে? মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রাইভারলেস মেট্রো হলেও জরুরি যোগাযোগের জন্য উন্নত ক্যামেরা, ইন্টারকম ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সরাসরি ব্যবস্থা থাকবে। এমনকি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে দূর থেকেই ট্রেন থামানো বা পরিচালনা করা সম্ভব।
এই পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে কলকাতা মেট্রো ভারতের চালকবিহীন মেট্রোর তালিকায় এক উজ্জ্বল নাম হয়ে উঠবে। যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমে আসার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও মসৃণ হবে বলে আশা করছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।