২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে টানাপড়েন! পুলিশকে ই-মেল করে তোপ দেগে কী লিখলেন ডেরেক?

একুশে জুলাই শহিদ দিবস পালন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে বিতর্ক। সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পরেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে পুলিশকে পাল্টা ই-মেল পাঠাল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনারকে পাঠানো ই-মেলে পুলিশের বক্তব্যকে “তথ্যের সম্পূর্ণ ভুল উপস্থাপনা” বলে অভিযোগ করেছেন।

বৈঠকে কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবার রাতে পাঠানো ই-মেলে ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, পুলিশের পাঠানো রিপোর্ট বৈঠকে হওয়া আলোচনার সঠিক প্রতিফলন নয়। তাঁর অভিযোগ, বৈঠক শুরু হওয়ার মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই পুলিশ প্রতিনিধিরা তাঁদের ‘ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে’ সভা করার পরামর্শ দেন। এর তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল প্রতিনিধিরা জানান, পুলিশ যেন শাসক দলের কথা “তোতাপাখির মতো” আওড়ানো বন্ধ করে।

ই-মেলে তৃণমূলের যুক্তি:
তৃণমূল সাংসদের চিঠিতে মূলত তিনটি বিষয় উঠে এসেছে:

ঐতিহ্য ও আবেগ: ২১শে জুলাই শহিদ দিবসের দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আর্থ-সামাজিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই দিনের গভীর আবেগের সংযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থান নিয়ে আপত্তি: পুলিশের প্রস্তাবিত হাজরা ক্রসিং বা রামলীলা ময়দানকে ‘শহিদ দিবস’-এর মতো বড় ও ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচির জন্য অনুপযুক্ত বলে তৃণমূল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ই-মেলে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন প্রস্তাব এই দিবসের পবিত্রতাকে অসম্মান করার শামিল।

পুলিশের ভূমিকা: পুলিশের প্রস্তাবিত ই-মেলটিকে পক্ষপাতমূলক বলে আখ্যা দিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন লিখেছেন, এমন আচরণ কলকাতা পুলিশের মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, তাদের আগের প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যেই যেন সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এই ই-মেলের পর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে পুলিশ-তৃণমূল এই তরজা যে আগামী কয়েকদিন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *