মেডিকেল ক্যাম্পাসে আমিষ খাবার নিষিদ্ধ! রাজ্যপালের নির্দেশে তোলপাড় কেজিএমইউ

লখনউয়ের ঐতিহ্যবাহী কিংস জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (KGMU) ক্যাম্পাসে মাছ, মাংস এবং ডিম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দিবেন পটেলের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
নিষেধাজ্ঞার কারণ কী?
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র কে কে সিং জানিয়েছেন, সম্প্রতি রাজ্যপালের প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন ও হস্টেলগুলির রান্নাঘর পরিদর্শন করেছিলেন। রাজভবনে জমা দেওয়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমিষ রান্নার ফলে রান্নাঘরগুলো অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রাজভবন থেকে ক্যাম্পাসে আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশের ক্ষোভ
ক্যাম্পাসের হস্টেলে প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থী থাকেন, যাঁদের বড় একটি অংশ আমিষ খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। সমালোচকদের মতে, রান্নাঘর অপরিচ্ছন্ন হলে তা সংস্কার করা বা পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করাই ছিল যুক্তিসঙ্গত সমাধান। কিন্তু তার পরিবর্তে আমিষ খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করাটা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের একটি অংশ।
বাইরে থেকে কি খাবার আনা যাবে?
যদিও প্রশাসনিক কর্তাদের মৌখিক আশ্বাস, শিক্ষার্থীরা চাইলে বাইরে থেকে আমিষ খাবার আনিয়ে খেতেই পারেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটেই নিরাপত্তা রক্ষীরা বাইরে থেকে আসা আমিষ খাবার আটকে দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষের দাবি, আমিষ নিষিদ্ধ হওয়ায় হস্টেলগুলোতে পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে নিরামিষ খাবারের পরিমাণ ও গুণমান বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বারাণসীতেও সম্প্রতি আমিষের দোকান শহরের বাইরে সরানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এই আবহে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।