পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়? বিদেশ মন্ত্রকের চাঞ্চল্যকর বার্তায় প্রশ্ন সাধারণের মনে

পাসপোর্ট থাকলেই আপনি ভারতীয় নাগরিক—এই ধারণা এবার পুরোপুরি খারিজ করে দিল কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, পাসপোর্ট কোনোভাবেই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণপত্র নয়; এটি শুধুমাত্র বিদেশ ভ্রমণের একটি বৈধ নথি বা ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’।
সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনের প্রসঙ্গ টেনে এই বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। তাঁর কথায়, “পাসপোর্ট ইস্যু করার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা এবং তাঁদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা। এর মাধ্যমে সরকার জানতে পারে প্রতিদিন কতজন দেশ ছাড়ছেন বা ফিরছেন।”
কেন পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৮ শতাংশ মানুষের কাছে পাসপোর্ট রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের সাফ কথা, পাসপোর্ট ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি মূলত ভ্রমণ সংক্রান্ত। এটি নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র বা চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়।
তাহলে নাগরিকত্বের প্রমাণ কী?
এই ঘোষণার পরই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন ধন্দ। তাহলে কোন নথিকে সরকার ‘একশো শতাংশ খাঁটি’ প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করবে? এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর সরকারি মহল থেকে এখনো মেলেনি। তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট নথি দেখে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। একাধিক নথিপত্র যাচাইয়ের পরই সরকার কোনো ব্যক্তিকে ভারতীয় হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়।
কী বলছে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট?
এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনীতে সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ড এবং রেশন কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের সুপারিশ করেছিল। নির্বাচন কমিশনও সেই পথেই হাঁটছে। কিন্তু সরকারি কর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই নথিগুলো থাকার পরেও সরকার বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, নাগরিকত্ব আইনে বারবার সংশোধনের ফলে দেশের সব মানুষের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের মানদণ্ড এক নয়।
সরকারের এই নতুন অবস্থানে নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রক্রিয়াটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—তাহলে নাগরিকত্ব প্রমাণের চূড়ান্ত নথির তালিকার শীর্ষে আসলে কী রয়েছে?