বাহ্যিক বিকৃতিই শেষ কথা নয়! অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

অ্যাসিড হামলার শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এতদিন অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের মধ্যে শুধু বাহ্যিক শারীরিক বিকৃতি থাকলেই ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আইন, ২০১৬’-এর আওতায় আনা হতো। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার আইনটি সংশোধন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ফলে, এখন থেকে অ্যাসিড হামলায় গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও প্রতিবন্ধী আইনের অধীনে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি ভাতার আওতাভুক্ত হবেন।

সিদ্ধান্তটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? অ্যাসিড হামলায় ভুক্তভোগীদের ওপর প্রভাব শুধু শরীরের উপরিভাগে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রেই অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গুরুতর ক্ষতি হয়, যা একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কর্মক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতদিন বাহ্যিক বিকৃতি না থাকায় বহু ভুক্তভোগীই সরকারি সুরক্ষা বা আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বৈষম্য দূর করার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভ্যন্তরীণ আঘাতের প্রভাবও একজন মানুষের জীবনের ওপর বাহ্যিক ক্ষতের মতোই ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

কী কী সুবিধা পাবেন আক্রান্তরা? এই সংশোধনী কার্যকর হওয়ার ফলে ভুক্তভোগীরা নিম্নোক্ত অধিকার ও সুবিধাগুলো পাবেন:

  • সরকারি সহায়তা: বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও ভাতা পাওয়ার অধিকার।

  • পুনর্বাসন: সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসনের সুযোগ।

  • শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে আইনি অধিকার ও বিশেষ সুবিধা।

  • সামাজিক মর্যাদা: প্রতিবন্ধী আইনের আওতায় আসার ফলে তাঁরা আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা পাবেন।

আইনের কার্যকারিতা: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে সরকার জানিয়েছে যে, আইনটি সংশোধন করে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সংশোধনীটি প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। অ্যাসিড হামলার শিকার শাহীন মালিকের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত এই বড়সড় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের লড়াইকে কিছুটা হলেও সহজ করবে এবং তাঁদের অধিকার ও মর্যাদাকে আইনি সুরক্ষা দেবে, এমনটাই মনে করছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *