TechTips: বাড়িতে থাকুক প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল ডিভাইস, দেখেনিন তালিকা

পালস অক্সিমিটার, ডিজিটাল ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মতো মেডিক্যাল ডিভাইসগুলো করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বেশ কাজে আসবে। ডিভাইসটি মেডিক্যাল সেন্টারের পাশাপাশি অনলাইনেও কিনতে পাওয়া যায়।

পালস অক্সিমিটার

কভিডের সময়ে বাড়িতে রাখার জন্য ‘পালস অক্সিমিটার’টি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হেলথ গেজেট। যন্ত্রটির কাজ হচ্ছে মানবদেহের হৃদস্পন্দনের গতি ও শরীরে রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয়।

অক্সিমিটার হাতের আঙুলের মাথায় লাগিয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম লক্ষণ। পালস অক্সিমিটার এসপিওটু স্তরগুলো রিডিং করে। এতে করে জানা যায় রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার পরিমাপ। পালস অক্সিমিটারগুলো পাওয়া যাবে ৮০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন

একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ ৮০ থেকে ১২০ মিমি এইচজি (mmHg) হওয়া উচিত। ব্লাড প্রেসার মাপার মেশিন কেনার সময় দেখে নিতে হবে সঠিক রিডিং দেখায় কি না। প্রকারভেদে ডিজিটাল রক্তচাপ মাপার মেশিনের দাম দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হয়ে থাকে।

ডিজিটাল ইনফ্রারেড থার্মোমিটার

‘ডিজিটাল ইনফ্রারেড থার্মোমিটার’ হলো একটি স্পর্শবিহীন যন্ত্র, যা ১-২ ইঞ্চি দূরত্ব থেকে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে। এতে অল্প সময়েই দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়। ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। থার্মোমিটারগুলো প্রকারভেদে এক হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

গ্লুকোমিটার
সবার জন্য গ্লুকোমিটারের প্রয়োজন না-ও হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিয়মিত মাপতে হবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা। বাজারে নানা মানের ও ব্র্যান্ডের গ্লুকোমিটার পাওয়া যায়। সঠিক মাত্রার পরিমাপ পেতে নিতে হবে একটু দামি গ্লুকোমিটার। গ্লুকোমিটারগুলো নিতে পারবেন এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।

অক্সিজেন কনসেনট্রেটর
‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’ একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা নিজে থেকেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অক্সিজেন তৈরি করতে সক্ষম। বাতাসে উপস্থিত অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন সংগ্রহ করা এবং ন্যাজাল ক্যানুলা অথবা অক্সিজেন মাস্কের মাধ্যমে রোগীকে বিশুদ্ধ বায়ু সরবরাহ করা এই যন্ত্রের কাজ। বলা যায়, এটি একটি ব্যয়বহুল ডিভাইস। তাই কেনার সময় দেখে নিতে হবে এর ওয়ারেন্টি, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পরিষেবা নেটওয়ার্কের মতো বিষয়গুলো। ডিভাইসটি বাজারে দামভেদে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

পোর্টেবল অক্সিজেন ক্যানিস্টার
কভিডের সময় বাড়িতে একটি বহনযোগ্য ‘অক্সিজেন ক্যানিস্টার’ রাখা দরকার। পোর্টেবল অক্সিজেন ক্যানিস্টার জরুরি অবস্থায় শ্বাসকষ্টের যত্ন নেওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র, যতক্ষণ না রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কভিড আক্রান্ত রোগীর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে জরুরি অবস্থায় বহনযোগ্য অক্সিজেন ক্যানিস্টার থাকা জরুরি। এটি রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। অত্যন্ত হালকা হওয়ায় বহন করাও সহজ। এটি শুধু একটি স্বল্পমেয়াদি সমাধান মাত্র। প্রকারভেদে ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পাওয়া যাবে।

নেবুলাইজার
শ্বাসতন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় ‘নেবুলাইজার’ একটি বহুল ব্যবহৃত যন্ত্র। কভিড হলে তীব্র শ্বাসকষ্টের সময় ইনহেলার ব্যবহার করতে রোগীর সমস্যা হলে নেবুলাইজার একটি কার্যকর যন্ত্র। নেবুলাইজার মেশিন দ্রুত ফুসফুসে সরাসরি অক্সিজেন পরিচালনা করতে পারে। ডিভাইসটি দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দামের মধ্যে পাওয়া যায়।

স্টিমার মেশিন
এটি প্রধানত সর্দি এবং কাশি নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বৈদুতিক স্টিমার গরম বাষ্প দেয়, যা কনজেশন বা জমাটবাঁধা এবং গলার জ্বালা কমায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম ভাপ নিলে করোনার প্রাথমিক উপসর্গ দূর হয়ে যাবে। কভিড থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে এটি বাসায় রাখতে পারেন। ডিভাইসটি বিভিন্ন শপে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *