‘শোয়েব আখতার ও আসিফ ভারতে এলে সঙ্গে ড্রাগ আনত’,-দাবি প্রাক্তন MHA অফিসারের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-কে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি আরভিএস মানি। এক সংবাদ সংস্থার পডকাস্টে তিনি দাবি করেছেন যে, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নিয়মিত সঙ্গী ছিল মাদক পাচার। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিল আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদত।
আরভিএস মানির দাবি, ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ইন্টারনাল সিকিউরিটি ডিভিশনে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর কাছে বহু রিপোর্ট এসেছিল। সেখানে নাম উঠে এসেছিল পাকিস্তানের দুই হাই-প্রোফাইল ক্রিকেটার—শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফের। মানির কথায়, “এমন রিপোর্ট ছিল যে, শোয়েব ও আসিফ যখনই ভারতে আসতেন, তাঁরা নিজেদের সঙ্গে মাদক নিয়ে আসতেন। তাঁরা পাকিস্তানের হাই কমিশনে স্বীকার করেছিলেন যে ড্রাগ আনার বিষয়টি। এরপরই তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়েছিল।”
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান কোচ বব উলমারের মৃত্যু ছিল এক বিশাল রহস্য। মানির দাবি, বব উলমার ড্রাগ পাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, আর সেই কারণেই তিনি খুন হয়ে থাকতে পারেন। মানি বলেন, “উলমারের মৃত্যু এবং পাকিস্তান দলের ড্রাগ পাচারের ঘটনাগুলির মধ্যে বিন্দু যোগ করলেই পুরো চিত্রটা স্পষ্ট হয়।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান সরকার ক্রিকেটারদের মাধ্যমেই মাদক পাচারের এই নীল নকশা তৈরি করেছিল।
জঙ্গি অর্থায়নের নতুন দিগন্ত: প্রাক্তন এই সরকারি কর্মকর্তার দাবি, জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ অর্থ জোগান দেওয়া হয় মাদক পাচারের টাকা থেকে। তিনি জানান, আফগানিস্তানের জালালাবাদে আফিমের ফলন বাড়লেই ভারতে নাশকতার আশঙ্কা বাড়ত, যা আইবি (IB)-র রিপোর্টে বারবার উঠে এসেছে। তাঁর আক্ষেপ, আইবি রিপোর্ট দিলেও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগগুলি সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেয়নি।
মানির এই বয়ান পাকিস্তান ক্রিকেট এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, শোয়েব-আসিফ কেবল উদাহরণ মাত্র, পুরো পাকিস্তান টিমই টাকার বিনিময়ে এই ড্রাগ কারবারে জড়িত ছিল। যদিও এই চাঞ্চল্যকর দাবির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।