‘মায়ের পছন্দের বিয়ে এড়াতে ন্যাড়া!’-ভাইরাল দাবির সত্যতা জানালেন সেই তরুণী

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ব্যাপক হারে ভাইরাল হয়, যেখানে এক তরুণীকে সম্পূর্ণ মাথা ন্যাড়া অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি সামনে আসতেই নেটপাড়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যে, নিজের মায়ের ঠিক করে দেওয়া বিয়ে এড়ানোর জন্যই ওই তরুণী এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই দাবিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।

কীভাবে ছড়াল বিভ্রান্তি? মূলত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কীর্তনা মেনন নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি ক্যাপশন দিয়েছিলেন, “আমার মা বিয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন”। এই ক্যাপশনটি দেখেই নেটিজেনদের একাংশ ধরে নেন যে, বাড়ির চাপের মুখে পড়ে বিয়ে থেকে বাঁচতেই কীর্তনা তাঁর চুল কেটে ফেলেছেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও এবং বিয়ের দাবিটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়।

মুখ খুললেন কীর্তনা, ফাঁস আসল সত্য: ভিডিওটি নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তি দেখে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন কীর্তনা মেনন নিজেই। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্তের সাথে বিয়ের কোনো সম্পর্কই নেই। তিনি বলেন, “এটি ছিল শুধুই একটি মজার ক্যাপশন। মানুষ এটাকে ভুলভাবে নিয়েছেন।”

হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? ভিডিওর সত্যতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কীর্তনা জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর শখ ছিল মাথা ন্যাড়া করার। একদিন তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার সময় হঠাৎই সেই ইচ্ছা তীব্র হয়ে ওঠে। তিনি তাঁর মাকে এই ইচ্ছার কথা জানান। প্রথমে মা ভেবেছিলেন এটি কেবলই মেয়েদের কোনো দুষ্টুমি বা মজা। কিন্তু কীর্তনা যখন নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তখন মা তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানান। এরপর তাঁরা দুজনে একটি মন্দিরে যান এবং সেখানে কীর্তনা তাঁর চুল দান করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ার ‘গুজব’ আর ‘বাস্তব’ যে কতটা আলাদা হতে পারে, কীর্তনা মেননের এই ঘটনা যেন তার এক নতুন উদাহরণ। বিয়ের ভয় নয়, বরং নিজের শখ ও ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবেই তিনি এই নতুন লুকে নিজেকে সাজিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *