মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট! তেলের দামে কি ফের রেকর্ড বৃদ্ধি? জানুন ভারতের উপর প্রভাব

মাসখানেক আগেও ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতির হাত ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সেই স্বস্তি এখন উধাও। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ৭৭-৭৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজে নয়া করের বোঝা
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে আমেরিকার নতুন ঘোষণা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এখন থেকে ২০ শতাংশ ‘নিরাপত্তা কর’ বা শুল্ক দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের এই প্রণালীর ‘অভিভাবক’ হিসেবে ঘোষণা করে এই কর ধার্য করার কথা জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি তেলের আমদানিমূল্য ও খুচরো বিক্রয়মূল্যের ওপর।

কী জানাচ্ছে সরকার?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, ভারত আপাতত কিছুটা কম দামে কেনা আগের মজুত তেল ব্যবহার করছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম টানা কম থাকলে সরকার খুচরো দাম কমানোর কথা ভাবতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ফের অস্থির হয়ে উঠেছে।

সাধারণ মানুষের জন্য প্রভাব:
ভারত তার প্রয়োজনের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে এবং হরমুজ প্রণালী এই রুটের অন্যতম প্রধান পথ। এই ২০ শতাংশ কর বা শুল্ক যদি কার্যকর হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে, তবে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলোর খরচ বেড়ে যেতে পারে। যদিও বর্তমানে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ে সরকার সরাসরি কোনো বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেনি, তবুও আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা আগামী দিনে জ্বালানির দামের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা: উত্তরোত্তর বাড়তে থাকা অশান্তির জেরে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৭-৭৯ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।

হরমুজ সংকট: মার্কিন প্রশাসনের ২০ শতাংশ করের নির্দেশ কার্যকর হলে পণ্য পরিবহণ খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

ভারতের অবস্থান: ভারত সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তবে এখনই জ্বালানির দামে কোনো বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *