নিজের মেয়েকেই যৌন নির্যাতন! সৎ বাবার পাশবিক অত্যাচারে স্তব্ধ বনগাঁ, গ্রেফতার মা-ও

নিজের মেয়ের ওপর লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল খোদ সৎ বাবার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, নিজের সন্তানের ওপর হওয়া এই অমানবিক নির্যাতনের কথা জানা সত্ত্বেও মা তা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। শেষপর্যন্ত মাসির বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ওই কিশোরীর সাহসে ভর করেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত সৎ বাবা এবং ওই কিশোরীর মা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে কিশোরীর বাবার মৃত্যুর পর মা বাগুইহাটিতে থাকা শুরু করেন। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিহারের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। মায়ের সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক গড়ে উঠলে তারা দিল্লিতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় মায়ের অনুপস্থিতিতে সৎ বাবা দিনের পর দিন নাবালিকা কন্যাকে যৌন নির্যাতন চালাত।
ঘটনা ফাঁস যেভাবে: সম্প্রতি মা ও সৎ বাবার সঙ্গে ওই কিশোরী বনগাঁয় মাসির বাড়িতে বেড়াতে আসে। শনিবার তাদের দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সৎ বাবার কুৎসিত রূপ দেখে ভয়ে কিশোরী আর ফিরতে চায়নি। মাসি-মেসো তাকে ফিরতে বললে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। নির্যাতিতার মুখে ঘটনার কথা শুনে হতবাক হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা সৎ বাবাকে চেপে ধরলে অভিযুক্ত তার অপরাধ স্বীকার করে।
পুলিশি পদক্ষেপ: রবিবার রাতে মাসি-মেসোর সঙ্গে বনগাঁ থানায় হাজির হয় ওই কিশোরী। তার স্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কিশোরী জানায়, তার মা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত সৎ বাবাকে গ্রেফতার করে। এছাড়া, অপরাধে মদত দেওয়া ও ঘটনা আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে কিশোরীর মাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়াতেও একই ধরণের ঘটনায় সৎ বাবা ও সৎ দাদুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যেখানে মায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পরপর এমন ঘটনায় সমাজজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।