ইজরায়েল-সৌদি ঐতিহাসিক চুক্তির নেপথ্যে লিন্ডসে গ্রাহাম! মৃত্যুর আগে কী পরিকল্পনা ছিল মার্কিন সিনেটরের?

ইজরায়েল এবং সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি বা ‘নরমালাইজেশন ডিল’ করানোর নেপথ্যে এক গোপন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে এল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিয়স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াত মার্কিন সিেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম তাঁর মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও এই চুক্তির রূপরেখা তৈরির জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন।
গোপন কূটনৈতিক দৌত্য:
রিপাবলিকান পার্টির বর্ষীয়ান নেতা এবং ইজরায়েলের কট্টর সমর্থক লিন্ডসে গ্রাহাম মনে করতেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইজরায়েল অভিযানের পরেই সৌদি-ইজরায়েল সম্পর্কের বরফ গলানোর মোক্ষম সময়। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও এই বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করেন। গ্রাহামের লক্ষ্য ছিল, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে কিন্তু নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই কূটনৈতিক মাইলফলক স্পর্শ করা।
কী ছিল পরিকল্পনা?
প্রতিবেদন বলছে, গত মে মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় গ্রাহাম প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতির উন্নতির পর যেন ইজরায়েল ও আরব দেশগুলোর সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়। এমনকি, হোর্মুজ প্রণালী খোলার জন্য একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি জ্যারেড কুশনার, ইজরায়েলের রন ডারমার এবং সৌদি আরবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন।
সৌদি আরবের শর্ত ও চ্যালেঞ্জ:
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও, রিয়াদের অবস্থান স্পষ্ট—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান চায় সৌদি আরব। তবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট সরকার এই শর্ত মানতে নারাজ। ফলে, নতুন সরকার গঠন হলেও এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা যথেষ্ট কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরব ও ইজরায়েলের এই সম্ভাব্য চুক্তি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারত। লিন্ডসে গ্রাহাম চেয়েছিলেন ওয়াশিংটন যেন এই প্রক্রিয়ায় ইজরায়েলের ওপর চাপ বজায় রাখে। যদিও তাঁর অকাল প্রয়াণে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন এক বড় প্রশ্নের মুখে।